বাজেট ঘাটতি মেটাতে বিদেশি ঋণে ঝোঁক, লক্ষ্য ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা

বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়লে স্বল্পমেয়াদে চাপ কমতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে ঋণ ব্যবস্থাপনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

2 Min Read

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আয়-ব্যয়ের ঘাটতি পূরণে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রস্তাব অনুযায়ী, এ খাতে ঋণের পরিমাণ গত অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে সরকারের মোট ব্যয়ের বিপরীতে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এতে মোট ঘাটতি দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

এই ঘাটতি মেটাতে বিদেশি উৎস থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। মোট ঘাটতির প্রায় ৬৪ শতাংশই বিদেশি ঋণের মাধ্যমে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর মধ্যে পুরোনো ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে ব্যয় হবে ৪৬ হাজার কোটি টাকা। ফলে নিট বিদেশি ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ লাখ ৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্য সামনে রেখে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি জানান, মধ্যমেয়াদে রাজস্ব আদায় বাড়িয়ে বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে, ঘাটতির বাকি অংশ পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে বাকি অর্থ সংগ্রহ করা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ঋণনির্ভর প্রবৃদ্ধি থেকে বেরিয়ে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *