রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা পর্যালোচনা করে প্রত্যাহারের সুপারিশ করতে জেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করেছে সরকার। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন-১ শাখা থেকে জারি করা এক সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে দায়ের হওয়া রাজনৈতিক মামলাগুলো এই উদ্যোগের আওতায় বিবেচিত হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মতির পর কমিটিগুলো গঠন করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোরশেদ চৌধুরী।
জেলা পর্যায়ের এ কমিটির সভাপতি থাকবেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। সদস্য হিসেবে থাকবেন পুলিশ সুপার (মহানগর এলাকায় একজন উপ-কমিশনার) এবং পাবলিক প্রসিকিউটর বা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রজ্ঞাপনে মামলার আবেদন ও নিষ্পত্তির একটি নির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো মামলার আসামি বা তার নিকটাত্মীয় সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের সঙ্গে মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের আইনজীবী কর্তৃক সত্যায়িত অনুলিপি জমা দিতে হবে।
নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী, আবেদন পাওয়ার সাত কর্মদিবসের মধ্যে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তা পাবলিক প্রসিকিউটরের মতামতের জন্য পাঠাবেন। পাবলিক প্রসিকিউটর ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে মতামত দেবেন। এরপর বিষয়টি জেলা কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হবে।
কমিটি যদি মনে করে যে কোনো মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা হয়রানিমূলক, তাহলে তা প্রত্যাহারের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করা হবে। আবেদন পাওয়ার ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে সুপারিশসহ প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।
এদিকে, ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর জারি করা আগের পরিপত্র বাতিল করা হয়েছে। নতুন এই প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
