তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারের পানি আরও বাড়তে পারে

নিউজনেক্সট অনলাইন :

2 Min Read

উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি নদ-নদীর পানি বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে রংপুর বিভাগের কয়েকটি জেলায় নদী-সংলগ্ন নিচু এলাকায় স্বল্পস্থায়ী বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বিডব্লিউডিবি)।

সোমবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রকাশিত বুলেটিনে বলা হয়, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর তীরবর্তী প্লাবনভূমি এবং নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। তবে তৃতীয় দিনে এসব নদীর পানি স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানিও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। আগামী পাঁচ দিন ধরে এই দুই নদীর পানি বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিডব্লিউডিবি। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কিছু স্থানে নদীগুলো সতর্কীকরণ স্তরের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এতে নদীতীরবর্তী নিচু এলাকায় অস্থায়ী জলাবদ্ধতা বা জলমগ্নতা সৃষ্টি হতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গের উজান এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। উজান ও ভাটির এই বৃষ্টিপাতের প্রভাবেই প্রধান নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়ছে।

বিডব্লিউডিবির রংপুর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আহসান হাবিব বলেন, মৌসুমি বৃষ্টির কারণে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার অধিকাংশ নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই। নদীগুলোর গতিপ্রকৃতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

সোমবার বিকেল ৩টার তথ্য অনুযায়ী, নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। রংপুরের কাউনিয়া এবং গাইবান্ধার তারাপুর ও হরিপুর পয়েন্টেও নদীটি এখনও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। একইভাবে দুধকুমার, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রেও পানি বাড়লেও তা এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।

তবে আবহাওয়া পূর্বাভাসে আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুরসহ দেশের চারটি বিভাগ এবং ভারতের সংলগ্ন উজান এলাকায় আরও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। ফলে উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোর পানি পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *