এবারের ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে মন্দাভাবের কারণে ট্যানারিগুলোতে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম চামড়া সরবরাহ হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন আড়তেও চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিক লোকসান, ব্যবসায়ী কমে যাওয়া এবং ট্যানারি মালিকদের সরাসরি চামড়া কেনার প্রবণতা বৃদ্ধির কারণে বাজারে আগের মতো সক্রিয়তা নেই। এ ছাড়া অতিরিক্ত গরম ও বৃষ্টির কারণে চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এবার কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখের বেশি। সম্ভাব্য চাহিদার তুলনায় সরবরাহ প্রায় ২২ লাখ বেশি রয়েছে। দেশে বছরে যে পরিমাণ চামড়া উৎপাদিত হয়, তার ৬০ শতাংশের বেশি আসে কোরবানির মৌসুমে।
চামড়া সংরক্ষণ ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। সারা দেশে বিনামূল্যে লবণ বিতরণ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় প্রশিক্ষণ, সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং মাঠপর্যায়ে তদারকির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ জন্য কয়েক কোটি টাকা বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সরকার এবার লবণযুক্ত গরুর কাঁচা চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা বাড়িয়েছে। ঢাকায় গরুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা। খাসি ও বকরির চামড়ার দামও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
সাভারের বিসিক ট্যানারিপল্লিতে ইতিমধ্যে কাঁচা চামড়া আসতে শুরু করেছে। ট্যানারি মালিকেরা বলছেন, দেশে প্রায় এক কোটি পশু কোরবানি হতে পারে। এর ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ চামড়া সংগ্রহের প্রস্তুতি থাকলেও বাস্তবে সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বলেন, প্রতিবছর নানা কারণে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়। এ বছরও বৃষ্টি ও গরমের কারণে বাড়তি ঝুঁকি রয়েছে। তবে দ্রুত লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা গেলে ভালো দাম পাওয়া সম্ভব হবে।
ব্যবসায়ীরা জানান, এখন কোরবানির অধিকাংশ চামড়াই ট্যানারি মালিকেরা সরাসরি কিনে নিচ্ছেন। ফলে আড়তগুলোতে আগের মতো চামড়া আসে না। পাশাপাশি দূরবর্তী এলাকা থেকে ঢাকায় চামড়া আনতে গিয়ে পরিবহন ও সংরক্ষণ সমস্যায় অনেক চামড়া নষ্ট হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মঞ্জুরুল হাসান বলেন, ঈদের দিন বিকেল থেকেই বাজার পরিস্থিতি বোঝা যাবে। রাতে সংগ্রহ করা চামড়া দ্রুত সংরক্ষণ না হলে মান কমে যায়, ফলে ন্যায্যমূল্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
