ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮৯, ধ্বংসস্তূপে চলছে উদ্ধার অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

2 Min Read

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ২ হাজার ৯৮০ জন। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ বুধবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।

ভূমিকম্পের পর ধসে পড়া ভবন ও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে দেশজুড়ে চলছে ব্যাপক অভিযান। স্থানীয় উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল।

ভেনেজুয়েলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুইজারল্যান্ডের ৮০ সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল এবং মেক্সিকোর ত্রাণকর্মীরা ইতোমধ্যে উদ্ধার কার্যক্রমে যোগ দিয়েছে। স্পেনের দলও পৌঁছেছে। ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, লুক্সেমবার্গ ও পর্তুগালের উদ্ধারকারীরা দেশটিতে পৌঁছানোর পথে রয়েছে।

উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া দলগুলো আরও ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করার সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ বলেন, “মানুষের জীবন বাঁচাতে আমরা অবিরাম কাজ করে যাচ্ছি।” তিনি আন্তর্জাতিক সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, উদ্ধার অভিযানে বহু মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হিসেবে লা গুয়াইরা রাজ্যে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। রাজধানী কারাকাসের আশপাশেও রাতভর অভিযান চালানো হয়েছে।

স্থানীয় চিকিৎসকরা জানান, লা গুয়াইরার প্রধান দুটি হাসপাতাল আহতদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতিও দেখা দিয়েছে।

ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্লোস আলভারাদো জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা অনেককেই হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পর একাধিক শক্তিশালী পরাঘাতও অনুভূত হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট জানান, ইতোমধ্যে ২১৪টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে।

- Advertisement -

বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ভেনেজুয়েলা। কর্তৃপক্ষ বলছে, গত ১২৬ বছরের মধ্যে এটি অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প।

ভূমিকম্পের পর আতঙ্কে রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় বহু মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন। বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বহু অঞ্চলে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে সেগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *