জাপানের আগাম সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) বড় ধরনের বিজয়ের পথে এগোচ্ছে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির প্রধান গণমাধ্যমগুলো। দলটির সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বে সরকারি জোট পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নির্বাচনী পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৪৬৫ আসনের সংসদে এলডিপি এককভাবে প্রায় ৩০০টি আসন অর্জন করতে যাচ্ছে। চূড়ান্ত ফল এমন হলে এটি হবে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে দলটির অন্যতম বড় জয়। ২০২৪ সালে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো এলডিপি এই নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও এককভাবে সরকার গঠনের অবস্থানে ফিরছে।
এলডিপির সাধারণ সম্পাদক শ্যুনিচি সুজুকি জাপানি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির আর্থিক সংস্কার পরিকল্পনা এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের অঙ্গীকার ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রেখেছে। প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকাইচির ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাও নির্বাচনে দলের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (সিডিপি) এবং কোমেইতো মিলে গঠিত ‘সেন্ট্রিস্ট রিফর্ম অ্যালায়েন্স’ বড় ধাক্কা খেতে যাচ্ছে। পূর্বাভাসে দেখা যাচ্ছে, জোটটি আগের ১৬৭টি আসনের মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ হারাতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা এলডিপি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও দুর্নীতির অভিযোগে জনসমর্থন হারিয়েছিল। তবে জাপানি গণমাধ্যমের মতে, তাকাইচির নেতৃত্ব দলটিতে নতুন গতি ও আস্থা ফিরিয়ে এনেছে।
এই সম্ভাব্য নির্বাচনী ফলাফল চীনের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা। কারণ, তাকাইচি শুরু থেকেই বেইজিংয়ের প্রতি কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত। তিনি একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, চীন যদি শক্তি প্রয়োগ করে তাইওয়ান দখলের চেষ্টা করে, তবে জাপান সামরিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাপান সফরে গেলে তাকাইচির ভূমিকা এবং পরে তাইওয়ান প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য বেইজিংকে ক্ষুব্ধ করেছিল। নতুন নির্বাচনী জয় সেই উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে এলডিপির বড় জয় জাপানের আর্থিক বাজারেও অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি ও কৌশলগত পররাষ্ট্রনীতির কারণে।
