আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় দাফন নিয়ে যে খবর দিচ্ছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম

ছয় দিনের কর্মসূচিতে থাকছে শোকযাত্রা, জানাজা ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

3 Min Read
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, ছবি - সংগৃহীত।

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় দাফন ও শোকানুষ্ঠান শুরু হচ্ছে শুক্রবার (৩ জুলাই) থেকে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ছয় দিনব্যাপী এই রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি ইরান ও ইরাকজুড়ে বিভিন্ন ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। শোকানুষ্ঠান শেষে ৯ জুলাই তাঁর জন্মস্থান মাশহাদে দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। ইরান সরকার এই আয়োজনকে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করেছে। এতে লাখো মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, ধর্মীয় নেতা ও কূটনীতিকদের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

ছয় দিনের শোকযাত্রা ও দাফন কর্মসূচি :

সরকার ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ৪ থেকে ৬ জুলাই রাজধানী তেহরানে মরদেহের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন, রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৭ জুলাই পবিত্র শহর কোমে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা আয়োজন করা হবে।

৮ জুলাই ইরাকে স্মরণানুষ্ঠান পালিত হবে। সবশেষ ৯ জুলাই মাশহাদের ইমাম রেজা মাজার প্রাঙ্গণে চূড়ান্ত দাফন সম্পন্ন করা হবে। পুরো কর্মসূচি জুড়ে তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ও আশপাশের এলাকায় শোকানুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিশেষ নিরাপত্তা, চিকিৎসা, পরিবহন ও স্বেচ্ছাসেবক ব্যবস্থাপনা চালু করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ :

ইরানের উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী আকবর পুরইয়ামশিদিয়ান জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৩০টির বেশি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিনিধি পাঠানোর আবেদন করেছে। পাশাপাশি প্রায় ৪০টি দেশের উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছেন।

মোট ৯০টির বেশি দেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রতিনিধির অংশগ্রহণের আগ্রহের কথা জানিয়েছে তেহরান। মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিনিধি আসছেন বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ থেকে অংশ নিতে তেহরান যাচ্ছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

ভারতের পক্ষ থেকেও একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল অংশ নেবে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। প্রতিনিধি দলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিটা এবং বিহারের রাজ্যপাল লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সৈয়দ আতা হাসনাইন থাকার কথা রয়েছে।

- Advertisement -

এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের শিয়া ধর্মীয় নেতা, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং কূটনীতিকদের উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়েছে।

দাফন বিলম্বের কারণ :

ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, আলী খামেনি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন। প্রথমে মার্চে রাষ্ট্রীয় দাফনের পরিকল্পনা থাকলেও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ, চলমান পরিস্থিতি এবং বড় জনসমাগমের আশঙ্কায় কর্মসূচি কয়েক মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়।

- Advertisement -

ইরান সরকার বলছে, এই রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শুধু একজন নেতার বিদায় নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

– রয়টার্স, তাসনিম নিউজ ও আল জাজিরা

 

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *