এক দশকের ব্যবধানে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পেল যুক্তরাজ্য। লেবার পার্টির নতুন নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বাকিংহাম প্যালেসে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি লন্ডনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে প্রথম ভাষণে দেশের জন্য ‘আমূল পরিবর্তনের’ অঙ্গীকার করেন।
বার্নহাম দায়িত্ব নেওয়ার কিছুক্ষণ আগে বিদায়ী বক্তব্য দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি বলেন, নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের হতাশাজনক ফল এবং চলমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই তাঁর বিদায় ঘটে। একই চ্যালেঞ্জের মুখে দায়িত্ব নিলেন নতুন প্রধানমন্ত্রী।
ডাউনিং স্ট্রিটে দেওয়া ভাষণে বার্নহাম বলেন, তাঁর সরকার আগামী বছরগুলোতে যুক্তরাজ্যে গত চার দশকের অন্যতম বড় সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে। গৃহহীন মানুষের জন্য আবাসন নিশ্চিত করাকে তিনি সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ রাজনীতির প্রতি আস্থা হারাচ্ছে এবং সেই হতাশার বিষয়টি তিনি উপলব্ধি করেন। জনগণের সঙ্গে সৎ থেকে বাস্তব পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে বার্নহাম বাকিংহাম প্যালেসে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে স্ত্রী মারি-ফ্রান্স ভন হিলকে সঙ্গে নিয়ে প্রাসাদ ত্যাগ করলে উপস্থিত জনতা করতালির মাধ্যমে তাঁদের স্বাগত জানায়।
কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের গুঞ্জনের পর থেকেই লেবার পার্টির সম্ভাব্য নতুন নেতা হিসেবে কয়েকজনের নাম আলোচনায় ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সমর্থন পান অ্যান্ডি বার্নহাম। সম্প্রতি তিনি গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়রের দায়িত্ব ছেড়ে উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের মেকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনে অংশ নেন এবং বিজয়ী হয়ে পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ৫৬ বছর বয়সী বার্নহাম ২০০৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের মন্ত্রিসভায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০১০ ও ২০১৫ সালে লেবার পার্টির নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও যথাক্রমে এড মিলিব্যান্ড ও জেরেমি করবিনের কাছে পরাজিত হন। পরে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সরকারের আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়ে জাতীয়ভাবে আলোচনায় আসেন বার্নহাম। পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা ছাড়া ম্যানচেস্টারে কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তিনি উত্তর ইংল্যান্ডে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। সেই সময় তাঁকে অনেকে ‘কিং অব দ্য নর্থ’ বলেও অভিহিত করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহামের প্রস্তাবিত ‘ম্যানচেস্টারিজম’ দর্শন তাঁর নেতৃত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ব্যবসাবান্ধব নীতি ও সামাজিক কল্যাণমূলক চিন্তার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই ধারণার মাধ্যমে তিনি ম্যানচেস্টারের উন্নয়নের অভিজ্ঞতাকে সারা যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছেন।
