বাজারে সবজির দাম স্থিতিশীল, মাছ ও ডিমের বাজার চড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক :

3 Min Read

রাজধানীর বাজারে সবজির দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও মাছ, ডিম ও চালের বাজারে বেড়েছে চাপ। শুক্রবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সবজির বাজারে প্রকারভেদে বেগুন ৫০ থেকে ৭০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, পটোল ৪০-৫০ টাকা, ধুন্দুল, চিচিঙ্গা ও কচুর লতি ৫০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কচুমুখি ৪০-৫০ টাকা, ঝিঙা ৬০ টাকা, পেঁপে ২৫-৩০ টাকা ও কাঁচা মরিচ ১৬০-২০০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে। করলার দাম বেড়ে এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি।

শাকসবজির মধ্যে লালশাক ১৫ টাকা, লাউশাক ৪০-৫০ টাকা, কলমিশাক ১০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা এবং ডাঁটাশাক ১৫ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে। আলুর কেজি ২৫-৩০ টাকা, দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে এখন ৬০ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৫০ টাকা কেজি।

তবে টমেটো, গাজর ও শসার দাম তুলনামূলকভাবে বেশি। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা, ইন্ডিয়ান গাজর ১৪০ টাকা, দেশি শসা ৮০-১০০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা কেজি দরে।

মুরগি ও গরুর মাংসের দাম স্থিতিশীল

মুরগির বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন নেই। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ২৮০ টাকা, সোনালি কক ৩১০ টাকা, দেশি মুরগি ৬৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার ও সাদা লেয়ারের দাম যথাক্রমে ২৮০ ও ২৭০ টাকা।

গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায়, গরুর কলিজা ও মাথার মাংস ৮০০ ও ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৩৫০-৪০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকা প্রতি কেজি দরে।

মাছের দাম এখনও চড়া, বিক্রি কম

গত সপ্তাহের তুলনায় ইলিশের দাম কিছুটা কমলেও অন্যান্য মাছের দাম চড়া। ইলিশের কেজি ১২০০ থেকে ২২০০ টাকা, দেশি শিং ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, রুই ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, দেশি মাগুর ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা এবং চাষের শিং ৩০০-৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

- Advertisement -

চাষের পাঙাশ ২০০-২৩৫ টাকা, চিংড়ি ৮০০-১২০০ টাকা, বোয়াল ৬০০-৮০০ টাকা, কাতল ৪০০-৫৫০ টাকা, পোয়া ৩৫০-৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা, কই ২২০-২৩০ টাকা ও মলা ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। টেংরা, বাতাসি ও কাচকি মাছের দামও ৫০০ থেকে ১৩০০ টাকার মধ্যে রয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, মাছের উৎপাদন খরচ, পরিবহন ব্যয় এবং সরবরাহ ঘাটতির কারণে দাম বাড়ছে। ফলে ক্রেতাদের আগ্রহ কমেছে।

চাল ও ডিমের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি

- Advertisement -

চালের দাম মাস দেড়েক ধরেই ঊর্ধ্বমুখী। মোটা চালের দাম ৬০ টাকা ছাড়িয়েছে। মাঝারি মানের মিনিকেট ও নাজির ৬৫-৭০ টাকা এবং উন্নত মানের চালের দাম ৭৫-৮৫ টাকার মধ্যে রয়েছে।

ডিমের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে যাচ্ছে। অধিকাংশ বাজারে ডজনপ্রতি ডিম ১২০ টাকা হলেও অনেক খুচরা দোকানে তা ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা ও সরকারের পদক্ষেপ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাছসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বাড়তে থাকলে তা পুষ্টিহীনতা বাড়াবে এবং সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে।

‘জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৫’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জানান, দেশে ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে, তবে দাম এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সরকারের পক্ষ থেকে বাজার তদারকির পাশাপাশি বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *