বিভিন্ন অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্ধ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান ‘ নগদ’ কে ডাক অধিদপ্তরের হাত থেকে সরিয়ে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা নতুন বিনিয়োগকারীর কাছে তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
বুধবার ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ সামিট ২০২৫’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘নগদ পরিচালনা করার সক্ষমতা ডাক বিভাগের নেই। তাই প্রতিষ্ঠানটিকে বেসরকারি খাতে দেওয়া হবে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে বিনিয়োগকারী খুঁজতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।’
অনিয়মের দায়ে কাঠগড়ায় নগদ
২০১৯ সালের ২৬ মার্চ যাত্রা শুরু করে নগদ। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সও পায়। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়ম ভেঙে নানা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে।
২০২৪ সালের ২১ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক আগের পর্ষদ ভেঙে প্রশাসক নিয়োগ করলেও পরে আদালত তা অবৈধ ঘোষণা করে। এরপর প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব নেয় ডাক অধিদপ্তর।
এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে নগদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুকসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। মামলায় বলা হয়, পরিদর্শনে বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাবে রাখা ই-মানির বিপরীতে ১০১ কোটি টাকার বেশি ঘাটতি পাওয়া যায়।
এছাড়া প্রশাসকের তদন্তে ৬৪৫ কোটি টাকারও বেশি ই-মানি ঘাটতি ও গুরুতর আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ মেলে।
নতুন বিনিয়োগকারী খোঁজা হচ্ছে
গভর্নর বলেন,
নগদে ইতোমধ্যে বড় ধরনের সংস্কার আনা হয়েছে। দেড় কোটি ভুয়া বা অকার্যকর হিসাব বাতিল করা হয়েছে। এখন প্রতিষ্ঠানটি পুনর্গঠনের পথে রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য এটিকে স্থিতিশীল করা এবং প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।
তিনি আরও বলেন, ‘এই খাতে কার্যকর প্রতিযোগিতা আনতে হলে শক্তিশালী প্রযুক্তি কোম্পানিকে নগদের প্রধান শেয়ারহোল্ডার হিসেবে আনতে হবে। বিকাশের মতো প্রতিষ্ঠান ধাপে ধাপে বিনিয়োগ করলে নগদকে যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।’
ক্যাশলেস সমাজ গড়ার উদ্যোগ
অনুষ্ঠানে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, শিগগিরই বেসরকারি খাতের ক্রেডিট ব্যুরোর অনুমোদন দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে যেন ভবিষ্যতে নতুন করে দেওয়া সব ট্রেড লাইসেন্সে কিউআর কোড বাধ্যতামূলক করা হয়।
তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর নগদ টাকার চাহিদা প্রায় ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে। টাকা ছাপাতে ব্যাংকের ব্যয়ও বাড়ে। তাই ক্যাশলেস সমাজ গড়তে হবে। নগদকে বেসরকারি খাতে হস্তান্তর তারই একটি অংশ।’
