বিভিন্ন মামলা যুক্ত বিতর্কিত স্বর্ণালংকার ব্যবসায়ী ও ধনকুবের দিলীপ কুমার আগরওয়ালা কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে গোপনীয়ভাবে মুক্তি পেয়েছেন। জুলাই হত্যাসহ একাধিক মামলায় আদালত তাকে জামিন দেয়ার পর দ্রুত তার জামিননামা কারাগারে পৌঁছে যায়। এর মাত্র তিন দিন পরে ৩০ সেপ্টেম্বর তাকে কঠোর গোপনীয়তায় ছাড়া হয়। এমন তথ্য দিয়েছে প্রভাবশালী গণমাধ্যম দৈনিক যুগান্তর।
আইনজীবীদের অভিযোগ, রাষ্ট্রপক্ষের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া একজন হাইপ্রোফাইল আসামিকে এত দ্রুত কারামুক্তি দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ, বন্দি মুক্তির ক্ষেত্রে সাধারণত একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থার ক্লিয়ারেন্স লাগে।
দিলীপ কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার পরপরই গা ঢাকা দিয়েছেন। কিছু সূত্রে বলা হচ্ছে, তিনি সীমান্ত পার হয়ে ভারতের দিকে চলে যেতে পারেন।
দিলীপ আগরওয়ালা আওয়ামী লীগের বাণিজ্য উপকমিটির নেতা ছিলেন এবং ২০২৪ সালে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর তিনি বিএনপিতে যোগদানের চেষ্টা করেন। ৪ সেপ্টেম্বর তাকে গুলশান থানা পুলিশ গ্রেফতার করে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ডজনখানেক মামলা বিচারাধীন।
দিলীপ ও তার স্ত্রী সবিতা আগরওয়ালার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ৮ অক্টোবর মামলা করেছে। উভয়ের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের বিরুদ্ধে স্বর্ণ চোরাচালান ও আন্তর্জাতিক অর্থপাচারের অনুসন্ধান চলছে।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, “জামিন দেওয়া আদালতের এখতিয়ার। দিলীপ কুমার আগরওয়ালা বেশ কয়েকটি মামলায় জামিনে ছিলেন, চূড়ান্ত কারামুক্তি বিষয়ে আমার জানা নেই।”
আসামিপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আদালত তাকে জামিন দিয়েছেন। বেইলবন্ড কারাগারে পৌঁছানোর পর তিনি মুক্ত হয়েছেন। পাসপোর্ট জব্দ অবস্থায় আছে, বিদেশে যাওয়ার সুযোগ নেই।”
