অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বেড়েছে, দরিদ্র হয়েছে দরিদ্রতর: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

নিজস্ব প্রতিবেদক :

3 Min Read

রাষ্ট্রপতির বাসভবন বঙ্গভবন থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি নামানোকে ‘অন্যায়’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।

শুক্রবার ঢাকার তোপখানা রোডে বিএমএ মিলনায়তনে ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক সম্মেলনে’ অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর ওই বছরের ১১ নভেম্বর বঙ্গভবনের দরবার হল থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবি সরানো হয়। সে সময় তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন, “বঙ্গভবনের দরবার হল থেকে ৭১ পরবর্তী ফ্যাসিস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরানো হয়েছে। এটা আমাদের জন্য লজ্জার যে, আমরা ৫ আগস্টের পর বঙ্গভবন থেকে তার ছবি সরাতে পারিনি। ক্ষমাপ্রার্থী। কিন্তু জুলাইয়ের চেতনা বেঁচে থাকা পর্যন্ত তাকে আর কোথাও দেখা যাবে না।”

এই প্রসঙ্গে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, মুজিবের ছবি বঙ্গভবন থেকে নামিয়ে দিয়েছে, এটা খুব অন্যায় কাজ। মুজিবের ছবি থাকা উচিত, তবে তার পাশে ভাসানী, কর্নেল তাহের ও মনি সিংহের ছবিও থাকা দরকার।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারকে নিরপেক্ষ সরকারের মতো আচরণ করতে হবে। দলীয় সংযোগ অবিলম্বে ছিন্ন না করলে এই সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় এটা জনগণ ভালো করেই বোঝে।

গণ-অভ্যুত্থানের পরও দেশে বৈষম্য কমেনি বলে মন্তব্য করে সেলিম বলেন, বলা হয়েছিল, এটা বৈষম্যবিরোধী অভ্যুত্থান। কিন্তু প্রশ্ন হলো দেড় বছর পার হয়ে গেল, বৈষম্য কতটা দূর হলো? বাস্তবে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। অর্থনৈতিক বৈষম্যই এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা। গরিবের সম্পদ যদি বড়লোকদের কাছেই যেতে থাকে, তাহলে শোষণ ও বৈষম্য কমবে না।

তিনি আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে ঐক্যমত্য কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন আছে। তারা কেবল একটি কাগজে সই নিয়েছে, তারপর সেটিকেই ‘ঐকমত্যের দলিল’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

গণভোট প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, গণভোটে সরকার একধরনের কৌশল নিয়েছে। এতগুলো বিষয় একসাথে রেখে নাগরিককে শুধু ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রকৃত মত প্রকাশের পথ রুদ্ধ হচ্ছে।

তার মতে, এভাবে গণভোট করা হলে তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূল ভিত্তিকে দুর্বল করবে। শুরু থেকেই তারা বলেছিল নতুন সংবিধান, নতুন পতাকা, নতুন রাষ্ট্র গঠনের কথা। সেটা করতে পারেনি, কিন্তু ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত রয়ে গেছে।

- Advertisement -

জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাত তাদের জন্য সুবিধাজনক। তারা চায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি বজায় থাকুক, যাতে নির্বাচনের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *