পারস্য উপসাগরজুড়ে তীব্র মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, যেখানে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও অবরোধের ফলে শত শত তেল, গ্যাস ও বাণিজ্যিক জাহাজ মাঝসমুদ্রে আটকা পড়েছে।
সাম্প্রতিক ম্যারিন ডাটা অনুযায়ী, বর্তমানে অন্তত ৩২০টি তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কারসহ প্রায় ২ হাজার ১৯০টি বাণিজ্যিক জাহাজ পারস্য উপসাগরের মাঝামাঝি অবস্থানে থমকে আছে। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১২০টি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করে, সেখানে মঙ্গলবার থেকে বুধবারের মধ্যে মাত্র ৬টি জাহাজ চলাচল করতে পেরেছে।
সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা কেপলার জানিয়েছে, আটকে পড়া জাহাজগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অপরিশোধিত তেল ও তরল গ্যাসবাহী বড় জাহাজ রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
বর্তমানে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপর কার্যত একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। কেবল লারাক দ্বীপ সংলগ্ন একটি নির্দিষ্ট করিডোর দিয়ে সীমিতসংখ্যক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি জাহাজ পারাপারে প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত ফি আদায় করা হচ্ছে, যা নৌপরিবহন সংশ্লিষ্টরা ‘তেহরান টোল বুথ’ নামে অভিহিত করছেন।
তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছে, কিছু ‘বন্ধুপ্রতীম’ দেশের জন্য এই বিধিনিষেধ শিথিল করা হতে পারে। বিশেষ করে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাস-এর জাহাজগুলো বর্তমানে ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে।
এদিকে চীন জানিয়েছে, বিশেষ কূটনৈতিক সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদের কয়েকটি জাহাজ নিরাপদে প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে গ্রিস, ভারতসহ কয়েকটি দেশের জাহাজও ঝুঁকি নিয়ে সীমিতভাবে চলাচল করছে।
এই সংকটে শুধু জাহাজ নয়, বিপদে পড়েছেন প্রায় ২০ হাজার নাবিক, যারা উত্তাল সমুদ্রে অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকা আছেন। মাইন, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় অনেক জাহাজ রাতে বা ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ রেখে চলাচলের চেষ্টা করছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য ৩৫টি দেশের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে চীন ও পাকিস্তান যৌথভাবে যুদ্ধবিরতি ও নিরাপদ নৌচলাচলের আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে দ্রুত অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন, অন্যথায় আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে এবং এর প্রভাব দ্রুত বিশ্ব অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়বে।
