মঙ্গল বা আনন্দ নয়, বর্ষবরণ হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে: সংস্কৃতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক :

2 Min Read
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন সামনে রেখে আজ সচিবালয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভা পরবর্তী সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। ছবি: বাসস

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, মঙ্গল বা আনন্দ নামে নয়, বর্ষবরণ হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে। দেশের নতুন সরকার নতুন উদ্দীপনায় নতুনের ডাক দিতে কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন সামনে রেখে আজ সচিবালয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভা পরবর্তী সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, পহেলা বৈশাখ উদযাপনকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা ও সমালোচনা চলছিল। যা শুধু অনাকাঙ্ক্ষিতই নয়, বরং তা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিতর্কের সব অবসান ঘটিয়ে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামটি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনে শোভাযাত্রার সকল প্রস্তুতির কাজ অব্যাহত রয়েছে। এবারের শোভাযাত্রা বরাবরের মতোই চারুকলা থেকে বের হবে।

তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ, যার শেকড়  প্রাচীন কৃষিভিত্তিক সমাজে প্রচলিত রয়েছে। কৃষিকাজ, ঋতুচক্র ও নতুন বছরের সূচনাকে কেন্দ্র করে এ উৎসবের বিকাশ ঘটেছে। পহেলা বৈশাখ মূলত চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর সর্বস্তরের জনসাধারণের উৎসব।

বর্তমান সরকার জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গণতন্ত্রে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য থাকবে।

সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কবি নজরুল ইনস্টিটিউট, বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, পহেলা বৈশাখ মূলত আনন্দ ও মঙ্গলের প্রতীক। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে অতীতের গ্লানি ভুলে ভবিষ্যতের মঙ্গল কামনা করাই এ উৎসবের মূল দর্শন। আনন্দ শোভাযাত্রা ও মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে সম্প্রতি যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, এর মাধ্যমে তার অবসান হচ্ছে।

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে রাজধানীর রমনা বটমূলসহ বিভিন্ন স্থানে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

- Advertisement -

ইউনেস্কো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত থাকবে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

এদিকে গত মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নববর্ষ উপলক্ষ্যে শোভাযাত্রা সকাল ৯ টায় চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হয়ে রাজু ভাস্কর্য, দোয়েল চত্বর, বাংলা একাডেমি হয়ে শোভাযাত্রাটি আবারো চারুকলা অনুষদে এসে শেষ হবে।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *