নতুন শ্রমবাজার, ই-হেলথ কার্ড ও আধুনিক প্রতিরক্ষা, সংসদে সমন্বিত পরিকল্পনার কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

বুধবার সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন সদস্যের লিখিত প্রশ্নের জবাবে সরকারের এ সব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

বিশেষ প্রতিনিধি :

3 Min Read
আজ বুধবার সকালে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কথা বলেন। ছবি: ‍পিআইডি

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রতিরক্ষা খাতে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিস্তৃত চিত্র জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন সদস্যের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব পরিকল্পনার কথা জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।


মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে নতুন শ্রমবাজার খোঁজার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলের দেশ সার্বিয়া, গ্রিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দূতাবাসগুলোকে সম্ভাব্য শ্রমবাজার যাচাই ও চাহিদা নিরূপণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের শ্রমবাজার খোলার কাজও এগিয়ে চলছে।


জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ৫৩টি টিটিসিতে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ চালু করা হয়েছে এবং রাশিয়ান, জার্মান, ইতালিয়ানসহ বিভিন্ন ভাষার প্রশিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্য খাতে প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী জেলায় এ সেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা ইলেকট্রনিক রোগী ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

পরিবেশ ও কৃষি খাতে পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খনন এবং ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। ইতোমধ্যে ১ কোটি ৫০ লাখ চারা উৎপাদন করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

শিক্ষা খাতে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ, ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই চালুর উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে চলমান প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় ইতোমধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষককে ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

ক্রীড়া খাতে জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য ভাতা চালুর কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে ৫০০ জনকে এ সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ১২৯ জন ভাতা পেয়েছেন।

আইসিটি খাতে হাই-টেক পার্ক ও সফটওয়্যার পার্ক কার্যকর করতে এবং দেশে পেপাল চালুর উদ্যোগে কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়াতে রুফটপ সোলার কর্মসূচির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিরক্ষা খাতে আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে সময়োপযোগী ও প্রযুক্তিনির্ভর শক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে নতুন নিরাপত্তা কৌশল ও প্রতিরক্ষানীতি প্রণয়ন করা হচ্ছে। সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ৪.৫ প্রজন্মের আধুনিক যুদ্ধবিমান সংযোজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

- Advertisement -

তিনি আরও বলেন, সাইবার নিরাপত্তা, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উপকূলীয় নিরাপত্তার মতো নতুন ক্ষেত্রেও সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বিভিন্ন খাতে সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থনীতি, জনসেবা ও জাতীয় নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই সরকার এগোচ্ছে বলে সংসদে জানান প্রধানমন্ত্রী।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *