বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রতিযোগিতামূলক ও স্বচ্ছ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে European Union (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন। প্রধান নির্বাচন পর্যবেক্ষক ইভারস ইজাবস বলেছেন, ভোট জালিয়াতির কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ তাদের হাতে আসেনি।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এতে দুই হাজারের বেশি প্রার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। ফলে ভোটাররা বিস্তৃত রাজনৈতিক বিকল্পের সুযোগ পেয়েছেন এবং নিজেদের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল।
ভোটার উপস্থিতি প্রসঙ্গে ইজাবস বলেন, কেবল অংশগ্রহণের হার দিয়ে নির্বাচনের মান বিচার করা যায় না। বরং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সমাজের সব প্রাসঙ্গিক গোষ্ঠী নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পেরেছে কি না এবং কেউ বাদ পড়েছে কি না।
নারীর অংশগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, মোট প্রার্থীর মধ্যে মাত্র চার শতাংশ নারী ছিলেন, যা রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ নয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার অনুযায়ী নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সংখ্যালঘু অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে প্রধান পর্যবেক্ষক বলেন, মাঠপর্যায়ে তারা আদিবাসী, ধর্মীয় ও নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন এবং অংশগ্রহণের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছেন।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক মূল্যায়ন দেন। প্রার্থী নিবন্ধন, ভোটগ্রহণ পদ্ধতি ও লজিস্টিক প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কমিশনের স্বচ্ছতা ও প্রস্তুতির প্রশংসা করেন তিনি।
ইজাবস আরও বলেন, একটি রাজনৈতিক দল বা অংশীজন হিসেবে দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ থাকলে সকল পক্ষকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং নির্বাচন-পরবর্তী বিরোধ নিষ্পত্তিতে আইনি প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখতে হবে।
ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল গত ২৯ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। তারা দেশের ৬৪ জেলার ৮০৫টি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছে। মার্চের প্রথমার্ধ পর্যন্ত অভিযোগ ও আপিল প্রক্রিয়াসহ নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে। বিস্তারিত সুপারিশসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন এপ্রিলের শেষ কিংবা মে মাসের শুরুতে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
