বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড তারপরও লোডশেডিং

নিউজনেক্সট প্রতিবেদক :

2 Min Read

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার রাত ৯টায় সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড করা হয়েছে ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। এর আগে সর্বোচ্চ উৎপাদনের রেকর্ড ছিল ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট, যা ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই ছিল।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি (পিজিসিবি) জানিয়েছে, রাত ৯টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৮৯৭ মেগাওয়াট। উৎপাদন হওয়া ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের মধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৫০৫ মেগাওয়াট। বাকি বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণজনিত ক্ষতির কারণে ৩৯২ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়।

বিদ্যুৎ খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সন্ধ্যার পর থেকে দেশে সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে গরমের মৌসুমে আবাসিক খাতে শীতলীকরণ যন্ত্রের ব্যবহার বেড়ে গেলে পিক লোড বৃদ্ধি পায়।

সূত্র জানিয়েছে, ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের মধ্যে গ্যাস থেকে এসেছে পাঁচ হাজার ১৮৬ মেগাওয়াট, জ্বালানি তেল থেকে তিন হাজার ৮২৬ মেগাওয়াট, কয়লা থেকে ছয় হাজার ৮১ মেগাওয়াট। এছাড়া জলবিদ্যুৎ ১০৭ মেগাওয়াট, বায়ু বিদ্যুৎ তিন মেগাওয়াট, ভারত থেকে আমদানি ৯৪৯ মেগাওয়াট এবং আদানি থেকে এক হাজার ৪৪৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এসেছে।

দেশের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রায় অর্ধেক আসে আবাসিক খাত থেকে। শিল্প খাত বিদ্যুতের প্রায় ৩০–৩৫ শতাংশ ব্যবহার করে, যার মধ্যে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল ও ভারী শিল্প প্রধান। বাণিজ্যিক খাত যেমন মার্কেট, অফিস ও হোটেল-রেস্তোরাঁতে প্রায় ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়। বাকি অংশ চলে কৃষি, সেচ কার্যক্রম, রাস্তাঘাট আলোকসজ্জা ও অন্যান্য জনসেবামূলক কাজে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট উৎপাদন ক্ষমতা বর্তমানে প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। তবে বাস্তব উৎপাদন নির্ভর করে জ্বালানি সরবরাহ, কেন্দ্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও চাহিদার তারতম্যের ওপর।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *