সমালোচনার মুখে নাম পরিবর্তনের পথে বগুড়ার নতুন তিন ইউনিয়ন

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পাওয়া চিঠিতে নবগঠিত ‘মীরবাড়ী’, ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করে স্থানীয় জগণের মতামত নিয়ে এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং ভোগোলিক পরিচিতিকে গুরুত্ব দিয়ে পুনরায় গণশুনানি করতে বলা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

2 Min Read

বগুড়ার শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় নতুন তিনটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ‘মীরবাড়ী’, ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ নামে গঠিত ইউনিয়নগুলোর নাম পুনর্বিবেচনার জন্য স্থানীয় মতামতের ভিত্তিতে গণশুনানির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এ–সংক্রান্ত চিঠি জেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান। চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারের স্বাক্ষর রয়েছে।

জেলা প্রশাসক জানান, এর আগে শুক্রবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফোন করে নবগঠিত ইউনিয়নগুলোর নাম পরিবর্তনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় জনগণের মতামত নিয়ে এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ভৌগোলিক পরিচিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন নাম নির্ধারণ করতে হবে। এ জন্য পুনরায় গণশুনানি আয়োজনের কথাও বলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নির্দেশনা অনুযায়ী ইউনিয়নগুলোর নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। নতুন নাম চূড়ান্ত হলে তা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

এর আগে গত ১১ ও ১৪ জুন জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হয়। এ সময় শিবগঞ্জে ‘মীরবাড়ী’ এবং মোকামতলায় ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম’ নামে নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়।

নামগুলো স্থানীয় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামের সঙ্গে মিল থাকায় বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। এ নিয়ে জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয় এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

তবে ‘স্বর্ণগ্রাম’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে, যা নিয়েও স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে।

এদিকে ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নামে নামকরণের উদ্যোগ নিয়েও সমালোচনা হয়। পরে এ ধরনের উদ্যোগ না নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

- Advertisement -

এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ইউনিয়নগুলোর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হওয়ায় এ নিয়ে আর কোনো বিভ্রান্তি থাকবে না। তাঁর প্রেস সচিব জানান, প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে কেউ কেউ ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছেন, যার কারণে তিনি নিজ নাম ব্যবহারে আপত্তি জানিয়েছেন।

সরকারের এ সিদ্ধান্তে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *