দেশে বর্তমানে সরকারি গুদামে ২২ লাখ ৯০ হাজার ২৭৭ টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। তাঁর দাবি, দেশের ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ খাদ্যশস্যের মজুত।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে যশোর-৪ আসনের সদস্য মো. গোলাম রছুলের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকারি গুদামে বর্তমানে ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৩৮৭ টন চাল, ৩ লাখ ২৮ হাজার ৪৯৫ টন গম এবং ২ লাখ ৩ হাজার ৬৬১ টন ধান রয়েছে। ধানকে চালের সমপরিমাণে হিসাব করলে মোট মজুত দাঁড়ায় ২২ লাখ ৯০ হাজার ২৭৭ টন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। ফলে দেশে এখন যে পরিমাণ খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে, তা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।
খাদ্য সংরক্ষণে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, অভিযোগগুলো ব্যক্তিগতভাবে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, অতীতে খাদ্য সংরক্ষণে গাফিলতির অভিযোগে একজন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও পাঁচজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
খাদ্যে ভেজাল প্রসঙ্গে সংসদে আরেক প্রশ্নের জবাবে আব্দুল বারী বলেন, ভেজাল খাদ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। ক্যানসার, কিডনি রোগসহ নানা জটিল রোগের অন্যতম কারণ খাদ্যে ভেজাল। এ বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
তিনি জানান, ভেজালবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করতে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, কর্মকর্তা ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কমিটির প্রথম বৈঠকে মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম জোরদার, নজরদারি বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিএসটিআই, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে নিয়ে সমন্বিতভাবে ভেজালবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।
