সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের অবৈধ সম্পদের তথ্য-সম্বলিত ২৩ বস্তা নথি উদ্ধার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা এলাকায় পরিচালিত অভিযানে এসব নথি জব্দ করা হয়।
দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম রোববার ,২১ সেপ্টেম্বর সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধার হওয়া নথিতে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই, সিঙ্গাপুর ছাড়াও ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও ক্যাম্বোডিয়ায় জাবেদের বিপুল সম্পদের প্রমাণ রয়েছে। এছাড়া নথিতে বাড়ির মালিকানা, ভাড়া থেকে আয়, রক্ষণাবেক্ষণ খরচসহ বিদেশে অর্থপাচারের (মানিলন্ডারিং) সুস্পষ্ট আলামত পাওয়া গেছে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, অভিযানের আগেই নথিগুলো সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। ১৬ সেপ্টেম্বর জাবেদের স্ত্রী রুকমীলা জামানের চালক মো. ইলিয়াস কালুরঘাটে অবস্থিত আরামিট গ্রুপের কার্যালয় থেকে এসব নথি বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর দুদকের অভিযান এড়াতে তিনি সেগুলো পাশের ওসমান তালুকদারের বাসায় সরিয়ে রাখেন। পরবর্তীতে তালা ভেঙে সেখান থেকেই ২৩ বস্তা নথি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ ও অন্যান্য সাক্ষীর উপস্থিতিতে নথিগুলো জব্দ করা হয়।
দুদকের অনুসন্ধান টাস্কফোর্স জানিয়েছে, উদ্ধার করা বিপুল নথি পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা করে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ একটি প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেওয়া হবে।
এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর দুদক আরামিট গ্রুপের এজিএম উৎপল পাল ও আব্দুল আজিজকে গ্রেপ্তার করে। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) থেকে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আদালত তাদের ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠায়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদেই শনিবারের অভিযানের সূত্র পাওয়া যায়।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামের প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর ছেলে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ চট্টগ্রাম-১৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০১৪-২০১৮ মেয়াদে ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯-২০২৩ পর্যন্ত ভূমিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
গত বছরের ৭ অক্টোবর আদালত তার ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন। তাদের বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

