মানিকগঞ্জের শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছেন। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার নালী ধুতরাবাড়ি এলাকায় নালী-পাটুরিয়া সড়কে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম, স্থানীয় মাতব্বর আয়ুব তালুকদারসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন। তারা অভিযোগ করেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে রফিকুল ইসলামের ভাবি সালমা আক্তার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু অভিযোগের সঠিক তদন্ত না করেই ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রফিকুলকে থানায় ডেকে নেয় পুলিশ।
ভুক্তভোগী রফিকুল সাংবাদিকদের জানান, ওসি আমার কোনো কথা শোনেননি। বরং আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল, হুমকি দিয়ে হাজতে আটকে রাখা হয়। পরে গভীর রাতে জোরপূর্বক মুচলেকা স্বাক্ষর করিয়ে আমাকে বলা হয়, পরদিন বিকেল ৫টার মধ্যে পৈত্রিক বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হবে। না হলে একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো হবে।
তিনি আরও বলেন, আদালতের দুটি রায় তার পক্ষে থাকলেও পুলিশ তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং ইতোমধ্যে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, রফিকুল একজন সহজ-সরল মানুষ। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পুলিশ টাকার বিনিময়ে তাকে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে ঘটনার দিন সকালে রফিকুল ছাদে উঠে মাইকে বক্তব্য দেন এবং শিবালয় থানার ওসি ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আত্মহত্যার হুমকি দেন। পরে স্থানীয়দের আশ্বাসে তিনি নিচে নামেন। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে শিবালয় থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন, সালমা আক্তার ৭ সেপ্টেম্বর একটি অভিযোগ করেন। পরদিন এসআই তদন্তে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পান। পরে রফিকুলকে থানায় আনা হয়। অভিযোগকারী ও স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করার কথা জানানোয় অভিযোগটি প্রত্যাহার করা হয়। পুলিশের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

