জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও তাঁর স্ত্রী শেরীফা কাদেরের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত। মনোনয়ন বাণিজ্যের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে দুদকের (দুর্নীতি দমন কমিশন) চলমান অনুসন্ধানের ভিত্তিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র স্পেশাল জজ ইব্রাহীম মিয়া এই আদেশ দেন। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন বাণিজ্যের মাধ্যমে ১৮ কোটি ১০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়। এ থেকে মূলত সুবিধাভোগী ছিলেন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদের। চুক্তি অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ না করায় অধ্যাপক মাসুদা এম রশীদ চৌধুরীকে সাময়িকভাবে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং পরে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন জি এম কাদেরের স্ত্রী শেরীফা কাদের।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জি এম কাদের জালিয়াতির মাধ্যমে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের পদে বসেন এবং দলীয় পদ ও মনোনয়ন বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করেন। সেই অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় কমিটি যেখানে নিয়মত ৩০১ সদস্যের হওয়ার কথা, সেখানে সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০০ থেকে ৬৫০ জন যা পদ বাণিজ্যের প্রমাণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, জি এম কাদেরের নামে নগদ ৪৯ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, ব্যাংকে ৩৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা এবং ৮৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকার একটি গাড়ি আছে। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী শেরীফা কাদেরের নামে রয়েছে নগদ ৫৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, ব্যাংকে ২৮ লাখ ৯ হাজার টাকা, ৮০ লাখ টাকার একটি গাড়ি এবং লালমনিরহাট ও ঢাকায় জমি ও ফ্ল্যাট।
জি এম কাদের ১৯৯৬ সালে প্রথমবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন।
