অভ্যুত্থানের পর চাঁদাবাজি ২০-৫০% বৃদ্ধি পেয়েছে : ঢাকা চেম্বার

বিশেষ প্রতিনিধি :

2 Min Read

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) দেশের রুগ্ন অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য নবনির্বাচিত সরকারের প্রতি চাঁদাবাজি ও সরকারি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।

আজ সোমবার রোড টু রিভাইভাল শীর্ষক বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপনকালে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ জানান, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর কিছু এলাকায় চাঁদাবাজি ২০-৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, রাতারাতি কঠোর হস্তে দমন না করা হলে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি স্বপ্নই থেকে যাবে।

ডিসিসিআই প্রধান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাক্ষরিত পারস্পরিক শুল্ক চুক্তিকেও সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেন, চুক্তির কারণে বাংলাদেশকে আগামী ১৫ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলারের এলএনজি কিনতে বাধ্য করা হয়েছে এবং ভর্তুকি দেওয়ার সক্ষমতাও সীমিত হয়েছে। তিনি সরকারের প্রতি চুক্তিটি পুনঃআলোচনার আহ্বান জানান।

ডিসিসিআই লজিস্টিক ও জ্বালানি খাতে চট্টগ্রাম বন্দরের সেবা শুল্ক ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবি জানায় এবং দৈনিক ৯২৫ এমএমএসসিএফডি গ্যাস ঘাটতি পূরণের জন্য অফশোর অনুসন্ধান চালানোর আহ্বান জানিয়েছে।

অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তাসকিন আহমেদ জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬.৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ শ্রেণিকরণে গ্রেস পিরিয়ড ৯ মাস থেকে কমিয়ে ৩ মাসে নামানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, এর ফলে খেলাপি ঋণ কৃত্রিমভাবে ৬.৪৪ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা মোট ঋণের ৩৬ শতাংশ।

ডিসিসিআই সভাপতি মুদ্রার অবমূল্যায়ন, উচ্চ ঋণ ব্যয় ও কার্যকরী মূলধনের সংকটের কারণে প্রকৃত ব্যবসাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে নীতি সুদহার কমানো, ভর্তুকিযুক্ত ঋণ সুবিধা চালু ও ঋণ শ্রেণিকরণ নীতিমালা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে, তবে প্রকৃত ব্যবসাগুলোর টিকে থাকার সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *