আর্থিক খাতে আস্থা ফেরাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর জোর অর্থমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক :

3 Min Read

দেশের আর্থিক খাতে জনগণের আস্থা পুনর্গঠনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক সততা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, অর্থনীতির ভবিষ্যতের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আর্থিক খাতের সুশাসন এবং নির্ভরযোগ্য আর্থিক প্রতিবেদন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

মঙ্গলবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ‘ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড রিপোর্টিং (এফএআর) সামিট-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। ‘ট্রাস্টওয়ার্দি ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং: হোয়াট রিয়েলি ম্যাটারস’ শীর্ষক এ সম্মেলনের আয়োজন করে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি)। এতে সহযোগিতা করে আইসিএবি ও আইসিএমএবি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্বল তদারকি ও অপশাসনের কারণে দেশের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থা কার্যকারিতা হারিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে অডিট, আর্থিক প্রতিবেদন ও নজরদারি ব্যবস্থায়। ফলে অর্থনীতি এখন এক ধরনের সংকটকাল অতিক্রম করছে।

ব্যাংক ও পুঁজিবাজারের আর্থিক শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিভ্রান্তিকর আর্থিক তথ্য দিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে প্রবেশ করেছে। এতে ভালো ও শক্তিশালী কোম্পানিগুলো নিরুৎসাহিত হয়েছে।

সম্পদের সঠিক মূল্যায়ন ও বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্থিক খাতের দুর্বলতার কারণে ব্যাংক ও বেসরকারি খাতে বড় ধরনের মূলধন ঘাটতি তৈরি হয়েছে। খেলাপি ঋণ, অর্থ পাচার এবং ব্যাংক মালিক ও ব্যবস্থাপকদের যোগসাজশে অর্থ আত্মসাতের ঘটনাকেও তিনি এই সংকটের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আমানতকারীদের অর্থ দিয়ে পরিচালিত হলেও অনেক ব্যাংক দীর্ঘদিন ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের মতো পরিচালিত হয়েছে। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

অর্থমন্ত্রী হিসাববিদদের পেশাগত দায়িত্ববোধ জোরদারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আর্থিক প্রতিবেদনের মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদেরই নিতে হবে। তিনি আইসিএবি ও আইসিএমএবির সদস্যদের মধ্যে কার্যকর স্ব-নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্ব দেন।

বিদেশি বিনিয়োগের প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশ নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। তবে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ নিশ্চিত না হলে সেই বিনিয়োগ আকর্ষণ করা কঠিন হবে।

তিনি আরও বলেন, স্বল্পমেয়াদি লাভের চিন্তা থেকে বেরিয়ে টেকসই ও পেশাদার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

- Advertisement -

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সভাপতিত্ব করেন অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এফআরসির চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *