চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮ দশমিক ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (৭৮ হাজার ২৩৩ মিলিয়ন ডলার)। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী দেশের ব্যাংকিং, রাজস্ব ও কৃষিঋণসহ নানা খাতের হালনাগাদ চিত্র তুলে ধরেন।
তিনি জানান, দেশে বর্তমানে মোট ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ১৯ কোটি ৩২ লাখের বেশি। এর মধ্যে সঞ্চয়ী হিসাব ১৭ কোটি ৭৯ লাখ এবং ঋণ হিসাব এক কোটি ৫৩ লাখের কিছু বেশি। ২০২৬ সালের মধ্যে সব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনতে সরকার জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল (এনএফআইএস) বাস্তবায়ন করছে। বর্তমানে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির হার ৬৪ দশমিক ৫০ শতাংশ।
ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে ৩০টি ব্যাংক উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘নো উইন, নো ফি’ ভিত্তিতে ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়া চলছে। প্রথম ধাপে কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
রাজস্ব খাতে অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে নিবন্ধিত করদাতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১ কোটি ৩৮ লাখের বেশি, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ বেশি।
কৃষিঋণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচির আওতায় চলতি অর্থবছরে এক হাজার ৫৬৭ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে ১৪ লাখের বেশি কৃষক উপকৃত হয়েছেন।
এ ছাড়া অর্থ সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তারল্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। গত ১৫ জুন পর্যন্ত এ খাতে ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি টাকার বেশি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত সুরক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, আমানত সুরক্ষা আইন ২০২৬ অনুযায়ী এসব ব্যাংকের গ্রাহকদের সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করা হচ্ছে।
