ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মীদের বাসা থেকে কাজের সুযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ভিয়েতনাম সরকার।
মঙ্গলবার দেশটির শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ আহ্বান জানায় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি হয়ে উঠেছে ভিয়েতনাম। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি ব্যবহার কমাতে যাতায়াতের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস করা জরুরি বলে মনে করছে সরকার।
এ কারণে সম্ভব হলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার ব্যবস্থা নিতে উৎসাহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দেশটির শীর্ষ জ্বালানি বিপণন প্রতিষ্ঠান পেট্রোলিমেক্সের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসের শেষ দিক থেকে ভিয়েতনামে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এ সময়ের মধ্যে পেট্রোলের দাম প্রায় ৩২ শতাংশ, ডিজেলের দাম ৫৬ শতাংশ এবং কেরোসিনের দাম প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে রাজধানী হ্যানয়েও দেখা যাচ্ছে। মঙ্গলবার শহরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে গাড়ি ও মোটরবাইকের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের প্রতি জ্বালানি তেল মজুত বা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা না করার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী ফাম মিন মিন কুয়েত, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন। পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানি আমদানির ওপর থেকে সব ধরনের শুল্ক সাময়িকভাবে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার, যা আগামী এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
