নানা বিতর্ক ও যাচাই-বাছাই শেষে ৬৬টি বেসরকারি সংস্থাকে স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে নিবন্ধন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী পাঁচ বছরের জন্য অনুমোদন পেয়েছে এসব সংস্থা। পাশাপাশি আরও ১৬টি সংস্থার বিষয়ে দাবি-আপত্তি যাচাই করতে ১৫ কার্যদিবসের সময় দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ইসি।
বৃহস্পতিবার ইসির জনসংযোগ পরিচালক রুহল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, নিবন্ধনের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রথম ধাপে এই ৬৬টি সংস্থাকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তারা ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা-২০২৫’ অনুসারে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।
এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য ৭৩টি সংস্থার প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করেছিল ইসি। তবে তালিকা প্রকাশের পরই সমালোচনা ওঠে, কারণ অনেক সংস্থা ছিল নামসর্বস্ব, ভুয়া বা পরিত্যক্ত স্থানে নিবন্ধিত। এসব অভিযোগের পর ইসি নতুন করে তদন্ত শুরু করে এবং দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তির পর ৬৬টি সংস্থাকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।
এর আগে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২০২৩ সালের পর্যবেক্ষণ নীতিমালা বাতিল করে ‘নাসির উদ্দীন কমিশন’ নতুন নীতিমালা জারি করে। এর মাধ্যমে আগের ৯৬টি পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধনও বাতিল করা হয়।
পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার ইতিহাস
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রথমবার পর্যবেক্ষক নিবন্ধন প্রথা চালু হয়। তখন ১৩৮টি সংস্থা নিবন্ধন পায় এবং ১ লাখ ৫৯ হাজার ১১৩ জন পর্যবেক্ষক ভোট পর্যবেক্ষণ করেন।২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে ৩৫টি সংস্থার ৮ হাজার ৮৭৪ জন, ২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে ৮১টি সংস্থার ২৫ হাজার ৯০০ জন, এবং ২০২৪ সালের দ্বাদশ নির্বাচনে ৮০টি সংস্থার ২০ হাজার ২৫৬ জন পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
নিবন্ধন পাওয়া সংস্থাগুলোর তালিকা
ইসির অনুমোদন পাওয়া ৬৬ সংস্থার মধ্যে রয়েছে—
পাথওয়ে, পল্লীশ্রী, রিসডা বাংলাদেশ, রশ্মি হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (আরএইচডিও), ইন্টিগ্রেটেড কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (আইসিডিএস), বাকেরগঞ্জ ফোরাম, একটিভ এইড ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন, সাথী, বকুলতলী মহিলা সংসদ (বিএমএস), অ্যাসোসিয়েশন অব মুসলিম ওয়েলফেয়ার অ্যাজেন্সিস ইন বাংলাদেশ (এএমডব্লিউএবি), হোপ, অধিকার, আরপিও ফাউন্ডেশন, অর্গানাইজেশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (উষা), সমাজ উন্নয়ন পল্লী সংস্থা (এসডিআরএস), হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস), সংগতি সমাজ কল্যাণ সংস্থা, অ্যাসোসিয়েশন অব ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিজ ইন বাংলাদেশ (এডাব), লাইট হাউজ, রূপান্তর, সোসাইটি ফর ব্রাইট সোস্যাল সার্ভিসেস, আবদুল মোমেন খান মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন, গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে), চাঁদ মানব উন্নয়ন সংস্থা, ব্যুরো অফ সোসাল ওয়াচ, অন্তরঙ্গ সমাজ কল্যাণ সংস্থা (এএসকেএস), প্রত্যয়, মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থা (মওসুস), বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ইকোলজিকাল রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (বিসেরি), আশ্রয় ফাউন্ডেশন, কর্ম উন্নয়ন কেন্দ্র (ডব্লিউডিসি), আলোকিত সমাজ কল্যাণ সংস্থা, বিচরণ কল্যাণ সংস্থা, ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভ, অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (এএসডি), সেবা ফাউন্ডেশন, র্যাক বাংলাদেশ, ডেমোক্রেসিওয়াচ, প্রত্যয় সোস্যাল ফাউন্ডেশন, ডিআরডিএস, আরএসএলইউআরপিএসএ, এসিয়া, চারু ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, স্কোপ, পাস, কার্ড, সিআরডি, ফেয়ার, অসেস, দিনাজপুর পল্লী উন্নয়ন প্রচেষ্টা (ডিপিইউপি), সমাহার, মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিসার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, বিয়ান মনি সোসাইটি, গরীব উন্নয়ন সংস্থা (জিইউএস), সচেতন নাগরিক সোসাইটি, দীপ্ত মহিলা উন্নয়ন সংস্থা, নজরুল স্মৃতি সংসদ, ব্রতী সমাজ কল্যাণ সংস্থা, মানব সহায়ক কেন্দ্র, বুরাল ভিশন, জিসা, মৌলিক অধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা, বিবি আছিয়া ফাউন্ডেশন, ডাক্তারবাড়ি সোস্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, ইয়ুখ ইনিশিয়েটিভ ফর সোসিও ইকনোমিক অ্যাকটিভিটি (ইযিয়া), মুক্তির বন্ধন ফাউন্ডেশন এবং দিশা সমাজ কল্যাণ সংস্থা।
