এশিয়াজুড়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ, সতর্ক বার্তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের

বিশেষ প্রতিনিধি :

3 Min Read

ভারত, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া এবং এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশে মে মাসের মাঝামাঝি থেকে কোভিড-১৯ সংক্রমণ আবারও ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভাইরাসটির নতুন ও আরও সংক্রামক ধরন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।

ভারতে বর্তমানে কোভিডে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ৭০০-এর বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে করোনায়। যদিও হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা এখনও তুলনামূলকভাবে কম, তবুও ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করার পাশাপাশি জনসমাগমস্থলে মাস্ক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

থাইল্যান্ডেও সংক্রমণ বাড়ছে। জুন মাসের শুরু থেকেই শত শত রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কেবল জুনের প্রথম দুই দিনেই ব্যাংককসহ বিভিন্ন এলাকায় ২৮ হাজার ৩০০ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন এবং এ বছর এখন পর্যন্ত অন্তত ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে ভাইরাসটিতে।

ইন্দোনেশিয়ায়ও কোভিড সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সেখানকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হাসপাতালগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী বুদি গুনাদি সাদিকিন জানান, ভাইরাসের নতুন ধরনগুলো বেশি সংক্রামক হলেও তুলনামূলকভাবে কম প্রাণঘাতী।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওমিক্রনের উপধরন এলএফ.৭ এবং এনবি.১.৮.১ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য দায়ী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনও এই ধরনগুলোকে ‘ভয়ের ধরন’ হিসেবে ঘোষণা না দিলেও সাম্প্রতিক সংক্রমণের জন্য এগুলোই মূলত দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে।

এনবি.১.৮.১ উপধরন ইতোমধ্যেই থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রে শনাক্ত হয়েছে। এটি দুই ধরনের করোনাভাইরাসের মিলনে গঠিত পুনর্গঠিত একটি ধরন। অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরাসবিদ লারা হেরেরো জানান, পরীক্ষাগারে দেখা গেছে এই ধরনটি মানব কোষে প্রবেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘এসিই-২’ রিসেপ্টরের সঙ্গে অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ হতে পারে—যা ভাইরাসটির সংক্রমণ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

নতুন ধরনের আক্রান্তদের মধ্যে ক্লান্তি, গলা ব্যথা, নাক বন্ধ এবং হজমে অস্বস্তির উপসর্গ বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, বর্তমানে ব্যবহৃত টিকাগুলো গুরুতর উপসর্গের বিরুদ্ধে এখনও কার্যকর।

ভারতে নতুন সংক্রমণের বড় অংশ এখনও আগের জেএন.১ ধরন থেকেই হচ্ছে বলে জানিয়েছে সার্স-কোভ-২ জিনোমিক্স কনসোর্টিয়াম। অধিকাংশ রোগীর উপসর্গ হালকা এবং সাধারণ ওষুধে নিয়ন্ত্রণে আসছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা বা অক্সিজেনের মাত্রা ৯৫ শতাংশের নিচে নেমে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এ অবস্থায় ভারতসহ কয়েকটি দেশে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ না করার বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. হালিমুর রশিদের স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশে করোনাভাইরাসের নতুন ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সব স্থল ও বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং এবং নজরদারি বাড়ানো হবে।

- Advertisement -
newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *