কৃষক কার্ডের মাধ্যমে মিলবে যে সকল সেবা

'ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি এবং বড় কৃষক' - এই পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করে কার্ড দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

3 Min Read
ছবি : পিএমও

কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির দেওয়া ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আজ (মঙ্গলবার) কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উপলক্ষে দেশের ১০টি জেলায় ১১টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ১৫ জন প্রান্তিক কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেয়ার মাধ্যমে সারাদেশে প্রি-পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

আজ টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষক কার্ড বিতরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বেলা ১২টা ২২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপের বাটন চাপার সঙ্গে সঙ্গে টাঙ্গাইলসহ দেশের ১১টি উপজেলার ২২ হাজার ৬৭ জন কৃষকের প্রত্যেকের কাছে মোবাইলের মাধ্যমে ব্যাংক একাউন্টে আড়াই হাজার টাকার নগদ অর্থ চলে যায়।

কৃষক কার্ডের সেবা

সরকার বলছে, কৃষকরা অর্থনীতির প্রাণ। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে যে ফসল ফলান, তাতেই এ দেশের মানুষের অন্নসংস্থান হয়। যে কার্ডটি কৃষকের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে, এটি কেবল একটি পরিচয়পত্র নয়; এটি অধিকারের দলিল, এটি সমৃদ্ধির সোপান। এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা যে সুবিধাগুলো পাবেন, তা জীবন ও জীবিকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ১০টি সেবা পাওয়া যাবে। এর মধ্যে

সরাসরি আর্থিক সহায়তা: এখন থেকে সরকারি নগদ প্রণোদনা বা ভর্তুকির টাকা সরাসরি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। কৃষকের টাকা কৃষকই পাবেন পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে।

কৃষি উপকরণ: স্বল্প মূল্যে উন্নত মানের সার, বীজ, সেচ ও আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি পেতে এই কার্ডটি সহযোগিতা করবে।

আর্থিক ও বিমা সেবা: কার্ডের মাধ্যমে সহজ শর্তে কৃষিঋণ পাওয়া যাবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতি হলে ‘কৃষি বিমা’র সুবিধা নিশ্চিত করা হবে এই কার্ডের মাধ্যমেই।

- Advertisement -

প্রযুক্তিগত পরামর্শ: স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফসলের রোগবালাই নিরাময়, আবহাওয়ার সঠিক পূর্বাভাস এবং বাজারের সর্বশেষ দর জানতে পারবেন। অর্থাৎ আধুনিক প্রযুক্তি এখন আপনার হাতের মুঠোয়, যা কৃষকের পণ্যের নিরাপত্তা দেবে এবং বাজার সংযোগ নিশ্চিত করবে।

ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ: সরাসরি ডাটাবেজের মাধ্যমে ফসল বিক্রি করার সুযোগ তৈরি হবে, ফলে ফড়িয়া বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে এবং উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পাবেন কৃষক।

প্রশিক্ষণ: কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণ সুবিধা পাবেন কৃষক। সরকারি এই সম্পদের সঠিক ব্যবহার করবেন এবং কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী উন্নত প্রযুক্তিতে চাষাবাদ করতে পারবেন কৃষক।

- Advertisement -

মন্ত্রণালয় জানায়, এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে দেশের ১১ উপজেলার ১১টি ব্লকে প্রি-পাইলট কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মার্চ থেকে শুরু হয়ে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে, যেখানে প্রায় ২১ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *