প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়া, পেনাল্টি মিস, প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের দুর্দান্ত সব সেভ—সব মিলিয়ে বিদায়ের শঙ্কায় পড়েছিল আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধে দুই গোলে পিছিয়ে যাওয়ার পরও হাল ছাড়েনি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ঘুরে দাঁড়িয়ে মিসরকে ৩–২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে লিওনেল মেসির দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। তবে প্রথম গোলটি পায় মিসর। ম্যাচের ১৫ মিনিটে কর্নার থেকে আতিয়ার ক্রসে নিখুঁত হেডে গোল করেন ইব্রাহিম। বিশ্বকাপে ২০১৮ সালের ফ্রান্স ম্যাচের পর এই প্রথম কোনো ম্যাচের প্রথমার্ধে গোল হজম করল আর্জেন্টিনা।
শেষ ১৩ মিনিটে তিন গোল করে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা
পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফেরার বড় সুযোগ আসে আর্জেন্টিনার সামনে। ২১ মিনিটে পেনাল্টি পায় তারা। কিন্তু অধিনায়ক লিওনেল মেসির নেওয়া স্পট কিক দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবাইর।
এরপরও আক্রমণের ধার কমেনি আর্জেন্টিনার। ২৮ মিনিটে রদ্রিগো ডি পলের ক্রস থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড ফিরিয়ে দেন শোবাইর। ৩৯ মিনিটে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর পাস থেকে হুলিয়ান আলভারেজের শটও অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকান মিসরের গোলরক্ষক। ফলে প্রথমার্ধে ১–০ ব্যবধানের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় মিসর।
বিশ্বকাপের এক আসরে দুই পেনাল্টি মিসের প্রথম ফুটবলার মেসি
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের গতি বাড়ায় আর্জেন্টিনা। তবে উল্টো ৬৮ মিনিটে আরেকটি গোল হজম করে আরও চাপে পড়ে তারা। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যায় মেসির দল।
শেষ পর্যন্ত ৭৯ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে শক্তিশালী হেডে ব্যবধান কমান ক্রিস্তিয়ান রোমেরো।
এর চার মিনিট পরই ম্যাচে সমতা ফেরায় আর্জেন্টিনা। মিসরের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে গনসালো মন্তিয়েলের পাস থেকে দুর্দান্ত শটে গোল করেন মেসি। মিসরের গোলরক্ষক বল স্পর্শ করলেও সেটি ক্রসবারে লেগে জালে ঢুকে যায়।
নাটকীয়তার শেষ অঙ্ক লেখা হয় যোগ করা সময়ে। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে এনসো ফার্নান্দেসের গোলে ৩–২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। শেষ বাঁশি পর্যন্ত সেই ব্যবধান ধরে রেখে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনের জয় নিশ্চিত করে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।
এই জয়ে বিশ্বকাপের শেষ আটে জায়গা করে নিল আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে দুর্দান্ত লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হলো মিসরকে।
