মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নানা অনিয়ম: রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের সম্পদ খুঁজছে দুদক

বিশেষ প্রতিনিধি :

4 Min Read

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর নামে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে অভিযুক্ত ২১৩ জনের সম্পদের হিসাব চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় সরকারি নির্ধারিত ফির চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ আদায়, অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে সংস্থাটি। এ ঘটনায় এর আগে ১০০টি রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ২৩২ জনের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা করেছে দুদক।

দুদক সূত্র জানায়, এসব মামলায় বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, তাঁদের পরিবারের সদস্য, কয়েকজন সাবেক সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরকে আসামি করা হয়েছে।

তদন্তের অংশ হিসেবে এখন অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত সম্পদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-২ বিভাগের পরিচালক এস এম এম আখতার হামিদ ভূঁইয়ার স্বাক্ষর করা চিঠির মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের সম্পদের হিসাব জমা দিতে বলা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগ, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ফি ছিল ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা। কিন্তু পাসপোর্ট, মেডিকেল পরীক্ষা, বিমান ভাড়া ও অন্যান্য খরচের কথা বলে কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে। এভাবে প্রায় ৭ হাজার ৯৮৪ কোটি ১৫ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) নির্ধারিত নিয়ম না মেনে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পদের বিবরণ দিতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকজন রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক সম্পদের তথ্য জমা দিয়েছেন। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, যাঁরা সম্পদের হিসাব জমা দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ২৫ জনের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদের তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে। সম্পদের বিবরণে কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুদক সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত ১৬৭ জন তাঁদের সম্পদের হিসাব জমা দিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হিসাব জমা না দিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

- Advertisement -

অভিযোগ অনুযায়ী, কর্মীদের কাছ থেকে সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ে বিভিন্ন সাব-এজেন্ট ও মধ্যস্থতাকারী ব্যবহার করা হয়েছে। এই অর্থের একটি অংশ অনুমোদিত ফি কাঠামোর বাইরে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের মামলায় উল্লেখযোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মধ্যে রয়েছে— আকাশ ভ্রমণ, উইনার ওভারসিজ, শাহিন ট্রাভেলস, নাভিরা লিমিটেড, আদিব এয়ার ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, ইউনাইটেড ম্যানপাওয়ার কনসালটেন্সি লিমিটেড, গ্রিনল্যান্ড ওভারসিজ, পিআর ওভারসিজ লিমিটেড, জাহারাত অ্যাসোসিয়েটেড লিমিটেড, অপূর্ব রিক্রুটিং এজেন্সি, জান্নাত ওভারসিজ, মিডওয়ে ওভারসিজ লিমিটেড, সাউথ পয়েন্ট ওভারসিজ লিমিটেড, অরবিটাল এন্টারপ্রাইজ, অরবিটাল ইন্টারন্যাশনাল, স্নিগ্ধা ওভারসিজ, বিনিময় ইন্টারন্যাশনাল, ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল, ইউনিক ইস্টার্ন, ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল, আহমেদ ইন্টারন্যাশনাল, বিএম ট্রাভেলস, বিএনএস ওভারসিজ, রুবেল বাংলাদেশ,  ইফটি ওভারসিজ, আমিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, জিএমজি ট্রেডিং (প্রাইভেট) লিমিটেড, জিএমজি ট্রেডিং অ্যাসোসিয়েটস, প্রান্তিক ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরিজম লিমিটেড।

দুদকের মামলায় উল্লেখ করা রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মধ্যে রয়েছে আকাশ ভ্রমণ, উইনার ওভারসিজ, শাহিন ট্রাভেলস, নাভিরা লিমিটেড, ইউনাইটেড ম্যানপাওয়ার কনসালটেন্সি, গ্রিনল্যান্ড ওভারসিজ, পিআর ওভারসিজ, মিডওয়ে ওভারসিজ, সাউথ পয়েন্ট ওভারসিজ, ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

- Advertisement -

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। দুদক বলছে, তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *