বিশ্বকাপের বাঁশিওয়ালাদের আয় কত, কীভাবে বাছাই হন রেফারিরা

নিউজনেক্সট অনলাইন :

3 Min Read
ফাইল ছবি।

বিশ্বকাপে গোল, জয়-পরাজয় আর তারকাদের পারফরম্যান্স নিয়েই বেশি আলোচনা হয়। অথচ মাঠের ৯০ মিনিট সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার নেপথ্যের কারিগর রেফারিরাও এই মহাযজ্ঞের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি বিশ্বকাপ ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া একজন রেফারির জন্য যেমন বড় সম্মানের, তেমনি এটি আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব। বিশ্বকাপের রেফারিদের নির্বাচন করা হয় দীর্ঘ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে।

কীভাবে নির্বাচিত হন বিশ্বকাপের রেফারি

ফিফা বিশ্বকাপের জন্য রেফারি নির্বাচন করে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সাধারণত বিশ্বকাপের কয়েক বছর আগে থেকেই সম্ভাব্য রেফারিদের তালিকা তৈরি করা হয়। আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা, শারীরিক সক্ষমতা, নিয়মের জ্ঞান, সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা এবং চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিবেচনা করে তাঁদের বাছাই করা হয়।

বিশ্বকাপের মূল আসরে সাধারণত বিভিন্ন মহাদেশের সেরা রেফারিরা সুযোগ পান। তাঁদের পাশাপাশি সহকারী রেফারি, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) এবং অন্যান্য ম্যাচ কর্মকর্তারাও দায়িত্ব পালন করেন।

ম্যাচপ্রতি কত পারিশ্রমিক পান রেফারিরা

ফিফা বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার জন্য রেফারিরা সাধারণত নির্দিষ্ট ম্যাচ ফি পান। সাম্প্রতিক বিশ্বকাপগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মূল রেফারিরা প্রতি ম্যাচে কয়েক হাজার মার্কিন ডলার পারিশ্রমিক পান। এর সঙ্গে যোগ হয় বিশ্বকাপের পুরো টুর্নামেন্টে থাকার জন্য নির্ধারিত ভাতা।

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে একজন মূল রেফারি ম্যাচপ্রতি প্রায় ৩ হাজার মার্কিন ডলার ফি পেয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। এছাড়া পুরো টুর্নামেন্টের জন্য তাঁরা প্রায় ৭০ হাজার মার্কিন ডলারের মতো নির্ধারিত ভাতাও পেয়েছেন।

সহকারী রেফারি ও ভিএআর কর্মকর্তাদের পারিশ্রমিক মূল রেফারির তুলনায় কিছুটা কম হলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁদের আয়ও উল্লেখযোগ্য।

তবে ফিফা সব বিশ্বকাপের জন্য রেফারিদের পারিশ্রমিকের বিস্তারিত কাঠামো সব সময় প্রকাশ করে না। তাই বিভিন্ন আসরে অঙ্কে কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে।

- Advertisement -

শুধু টাকা নয়, সম্মানও বড় প্রাপ্তি

বিশ্বকাপের রেফারিদের দায়িত্ব শুধু একটি ম্যাচ পরিচালনা করা নয়। তাঁদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত কোটি কোটি দর্শকের নজরে থাকে। একটি ভুল সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে, আবার একটি সঠিক সিদ্ধান্ত একজন রেফারিকে ইতিহাসের অংশ করে তুলতে পারে।

বিশ্বকাপের ফাইনাল পরিচালনা করা একজন রেফারির ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়। ফুটবলের ইতিহাসে অনেক রেফারি শুধু বিশ্বকাপ ফাইনাল পরিচালনার কারণেই স্মরণীয় হয়ে আছেন।

- Advertisement -

প্রযুক্তির যুগে রেফারিদের নতুন চ্যালেঞ্জ

বর্তমান ফুটবলে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় রেফারিদের দায়িত্ব আরও জটিল হয়েছে। ভিএআর ব্যবস্থার কারণে গোল, পেনাল্টি, লাল কার্ড বা অফসাইডের মতো সিদ্ধান্ত আরও নিখুঁত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব এখনো মাঠের রেফারির ওপরই থাকে। তাই বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে তাঁদের মানসিক দৃঢ়তা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং খেলার নিয়ন্ত্রণ রাখার দক্ষতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

খেলোয়াড়েরা যেমন বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামেন, তেমনি রেফারিদের কাছেও বিশ্বকাপ পরিচালনা করা ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ স্বীকৃতিগুলোর একটি।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *