জয়ের খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত অবিশ্বাস্য ব্যাটিং বিপর্যয়ে হারল বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৩ রানের পরাজয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ খোয়াতে হয়েছে সফরকারীদের। স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে পেয়েছে বাংলাদেশের বিপক্ষে স্মরণীয় এক সিরিজ জয়ের স্বাদ।
হারার মাঠে ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় একসময় জয়ের পথেই ছিল বাংলাদেশ। ৪৯ বলে প্রয়োজন ছিল মাত্র ৪১ রান, হাতে ছিল ৫ উইকেট। কিন্তু এরপরই শুরু হয় ধস। শেষ পর্যন্ত ৪৮ দশমিক ১ ওভারে ২৩৪ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।
মেহেদী হাসান মিরাজ শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালালেও দলের হার এড়াতে পারেননি। ১৪ রানের সমীকরণ মেলাতে গিয়ে এনগারাভার বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। তার বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয় বাংলাদেশের লড়াই।
অথচ এক পর্যায়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৫ উইকেটে ২০৭ রান। নুরুল হাসান সোহান ও মিরাজ দলকে জয়ের আশা দেখাচ্ছিলেন। নুরুলের ৩৮ রানের ইনিংস শেষ হওয়ার পরই ছন্দপতন ঘটে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে। এরপর একে একে সাজঘরে ফেরেন রিশাদ হোসেন (৮), তাসকিন আহমেদ (০), শরিফুল ইসলাম (৬) ও মিরাজ (২৭)। শেষ ৫ উইকেট হারাতে বাংলাদেশ যোগ করতে পেরেছে মাত্র ২৭ রান।
এর আগে শুরুতে ৩৮ রানে ২ উইকেট হারালেও তানজিদ হাসান তামিম ও তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। দুজনের ৮৪ রানের জুটিতে দলের স্কোর ১২২ রানে পৌঁছে যায়। তানজিদ ৫৭ রান করে ফিরলে ভাঙে সেই জুটি। পরে তাওহীদ হৃদয়ও ৬০ রান করে আউট হন। এরপর নুরুল হাসান দায়িত্ব নিলেও শেষ পর্যন্ত দলকে জেতাতে পারেননি।
জিম্বাবুয়ের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন রিচার্ড এনগারাভা। ৫৫ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। ব্লেসিং মুজারাবানি ও ব্র্যাড ইভান্স নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। এছাড়া সিকান্দার রাজা, ব্রায়ান বেনেট ও ওয়েসলি মাধেভেরে পেয়েছেন একটি করে উইকেট।
এর আগে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ। শুরুতে বোলারদের দাপটে স্বাগতিকদের চাপে ফেলেছিল তারা। মাত্র ৬৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছিল জিম্বাবুয়ে।
সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন বেন কারান। দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন তিনি। ১৩৫ বলে ৯টি চারে ১১১ রান করেন এই ব্যাটসম্যান।
কারানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ব্র্যাড ইভান্স। শেষ দিকে মাত্র ৩৮ বলে অপরাজিত ৫৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। তার ব্যাটে ছিল ২টি চার ও ৫টি ছক্কা। সপ্তম উইকেটে কারান ও ইভান্সের ৯৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৬ উইকেটে ২৪৭ রানের শক্ত সংগ্রহ পায় জিম্বাবুয়ে।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে তাসকিন আহমেদ ৫৭ রানে নেন ২ উইকেট। মেহেদী হাসান মিরাজ ৩২ রানে পেয়েছেন ২ উইকেট। একটি করে উইকেট নেন নাহিদ রানা ও রিশাদ হোসেন।
এই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ নিশ্চিত করেছে জিম্বাবুয়ে।
