ধীরগতিতে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশের অর্থনীতি, প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪.৫ শতাংশ: এডিবি

বিশেষ প্রতিনিধি :

3 Min Read

চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই পুনরুদ্ধার হবে ধীরগতির। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সর্বশেষ এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ।

এ হার চলতি অর্থবছরের সম্ভাব্য ৩ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় তা কম। এডিবির মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রপ্তানি খাতে দুর্বলতা, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, জ্বালানি সংকট এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে আগের অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় কম হয়েছে।

তবে আগামী সময়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কিছুটা গতি ফিরতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি। মূল্যস্ফীতি ধীরে কমে আসা, ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নত করা, সুশাসন জোরদার, কর প্রশাসনে সংস্কার এবং প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

এডিবি বলেছে, প্রবৃদ্ধির গতি বাড়লেও তা দ্রুত হবে না। কারণ ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতার ঘাটতি এখনো বড় বাধা হয়ে আছে।

প্রতিবেদনে আগামী অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪ দশমিক ৫ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলের পূর্বাভাসে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতির কথা বলা হলেও নতুন প্রতিবেদনে তা বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ করা হয়েছে।

এডিবির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া, বিনিময় হারজনিত চাপ এবং খাদ্য ও সেবা খাতে মূল্যস্ফীতি স্থায়ী হওয়ার কারণে মূল্যস্ফীতি কমার গতি ধীর হতে পারে।

এডিবির বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান আকিরা মাতসুবাগা বলেন, কঠিন বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির মধ্যেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং সেবা খাতের স্থিতিশীলতা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সহায়তা করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির জন্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা, আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা এবং জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে সংস্কার প্রয়োজন।

এদিকে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ঝুঁকির বিষয়েও সতর্ক করেছে এডিবি। সংস্থাটি বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বাড়লে জ্বালানির দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। এতে মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক লেনদেনে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন শুল্ক বা বিধিনিষেধ, বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোর ধীরগতি, বৈদেশিক অর্থায়নের কঠোর পরিবেশ এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকিও দেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকতে পারে।

- Advertisement -
newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *