গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টে চাপে পড়েও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ৪৫ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। চাপের মুহূর্তে তাদের ২৩৫ রানের অপরাজিত জুটি বাংলাদেশকে এনে দেয় আত্মবিশ্বাস, স্থিতি এবং লড়াইয়ে ফেরার সাহস। একই ইনিংসে এসেছে দুইটি দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, দীর্ঘ সময় পর চেনা রূপে ফিরেছেন মুশফিক ও শান্ত দুজনেই।
দলের বিপর্যয়ের সময় ব্যাট হাতে নামেন মুশফিক। শুরু থেকেই ধৈর্য, সংযম আর বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিংয়ে সামাল দেন প্রতিপক্ষের আক্রমণ। ধীরে ধীরে গড়তে থাকেন বড় জুটি। আর অবশেষে ১৭৫ বল খেলে ৫টি চারে ক্যারিয়ারের ১২তম টেস্ট শতকের দেখা পান তিনি। রোমাঞ্চকর সেই সেঞ্চুরির মুহূর্তে হেলমেট খুলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, আর শান্তর আলিঙ্গনে যেন পাওয়া যায় তার ফিরে আসার স্বীকৃতি।
অন্যদিকে, প্রায় দেড় বছর পর টেস্টে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। শান্ত, আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে ২০২ বলে ১১টি চার ও একটি ছক্কায় পূর্ণ করেন তার ষষ্ঠ টেস্ট শতক। শতকের সময় তার উদযাপন ছিল চিৎকারে ভরপুর, মুখে ছিল স্বস্তির হাসি, চোখে ছিল আত্মবিশ্বাস। এই ইনিংস শুধু পরিসংখ্যান নয়, অধিনায়ক হিসেবে তার আত্মপ্রতিষ্ঠার দিক থেকেও তা হবে গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৩ সালের নভেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শান্তর শেষ টেস্ট সেঞ্চুরির পর একাধিক ইনিংসে ভালো শুরুর পরও শতকে রূপ দিতে পারেননি। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হলো গলে। আর মুশফিকের ক্ষেত্রেও ২০২৪ সালের আগস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৯১ রানের ইনিংসের পর দীর্ঘ রানখরা কাটল।
শেষ খবর অনুযায়ী, বাংলাদেশ ৩ উইকেটে তুলেছে ২৮৪ রান। ক্রিজে অপরাজিত আছেন দুই সেঞ্চুরিয়ান মুশফিক ও শান্ত। এই জুটি বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে নিচ্ছে, আর তাদের ফিরে আসা যেন টাইগারদের নতুন আশার আলো।
