জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের রুপান্তর রূপপুরে

প্রায় এক লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ প্রকল্পের ৯০ শতাংশ অর্থ ঋণ দিচ্ছে রাশিয়া, যেটা ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

2 Min Read
ছবি - সংগৃহীত।

পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর প্রথম ইউনিটে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে দেশের বিদ্যুৎ খাতে নতুন এক মাইলফলক যুক্ত হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এটি শুধু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়; বরং দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের একটি প্রতীক। কেন্দ্রটি চালু হলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।


প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কেন্দ্রটির স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল প্রায় ৬০ বছর। প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার করা হলে আরও প্রায় ৩০ বছর পর্যন্ত এর কার্যক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। একবার জ্বালানি লোড করার পর তা দিয়ে প্রায় দেড় বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। পরে ধাপে ধাপে জ্বালানির এক-তৃতীয়াংশ পরিবর্তন করা হবে।


প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে আর্থিক, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিচ্ছে রাশিয়া। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ ঋণ হিসেবে দিচ্ছে দেশটি, যা দীর্ঘমেয়াদে পরিশোধ করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখানে ব্যবহৃত তৃতীয় প্রজন্মের রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তিতে উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, যা জরুরি পরিস্থিতিতেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হতে পারে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. প্রীতম কুমার দাস বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা প্রটোকল মেনে চলা বাধ্যতামূলক। সামান্য বিচ্যুতিও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই ‘শূন্য ত্রুটি’ নীতিই এ ধরনের প্রকল্পের মূল ভিত্তি।

তিনি আরও বলেন, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ব্যবহৃত জ্বালানি পুনর্ব্যবহারের সুযোগও তৈরি হতে পারে, যা ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে।

বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক শক্তি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বর্তমানে এটি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই কেন্দ্র চালু হলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় বছরে প্রায় ২০ মিলিয়ন টন এবং গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রের তুলনায় প্রায় ৮ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে রূপপুর প্রকল্প এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত প্রস্তুতির পথে এগিয়ে গেল।

- Advertisement -
newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *