বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) উল্লেখ করেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে হলেও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ হয়নি। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেছেন।
বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নানা অনিশ্চয়তা ও শঙ্কার পরও ভোটগ্রহণ আপেক্ষিকভাবে শান্তিপূর্ণ হয়েছে। ভোটাররা বাধাহীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন।
তবে ফিরোজ বলেন, নির্বাচনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বলা যাবে না, কারণ ধনী ও গরিব প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ ছিল না। নির্বাচনে অর্থের প্রভাব, ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক প্রচারণা এবং প্রশাসন ও প্রচার মাধ্যমের পক্ষপাত নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে। বিশেষত ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলের প্রভাব বৃদ্ধি আগামী গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে দেখা যেতে পারে।
ফিরোজ আরও স্মরণ করিয়েছেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদী শাসকগোষ্ঠী ভোটাধিকার হরণ করায় জনগণ গণ-অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে। আগামী নির্বাচিত সরকার যেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ’৯০ ও ’২৪-এর গণ অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করে এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় দ্রুত উদ্যোগ নেয়।”
বিবৃতিতে বাসদ আশা প্রকাশ করেছে, নতুন সরকার বিদেশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি বাতিল করবে এবং শ্রমিক, কৃষক, নারী, আদিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা করবে। এছাড়া গণতান্ত্রিক অধিকার, ন্যায্য মজুরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং উগ্র-ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
