থুতু ফেলাকে কেন্দ্র করে সাভারে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভয়াবহ সংঘর্ষ

সাভার প্রতিনিধি :

3 Min Read

আশুলিয়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাতভর সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষের অন্তত দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

রোববার রাত ৯টা থেকে শুরু হয়ে রাত সাড়ে ১২টায় আশুলিয়ার খাগান বাজার এলাকায় এই সংঘর্ষ ও অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে। রাতভর এই সংঘর্ষের ঘটনায় সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং স্থানীয় রাজু জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন সূত্রে খোঁজ নিয়ে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর আহতের খবর পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে স্থানীয় থানা পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে সিটি ইউনিভার্সিটির দুই শিক্ষার্থী মোটরসাইকেল যোগে যাওয়ার পথে থুথু ফেলেন। সেই থুথু খাগান বাজারে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থীর গায়ে লাগে। পরবর্তীতে মোটরসাইকেলে থাকা সিটি ইউনিভার্সিটির ওই দুই শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে মারধর করেন ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। পরে ওই দুই শিক্ষার্থী ক্ষমা চেয়ে ফিরে গিয়ে সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের জানালে তারা ২০-২৫ জন একত্র হয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির দিকে অগ্রসর হন। সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে যাওয়ার খবরটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির এক থেকে দেড় হাজার আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে সিটি ইউনিভার্সিটিতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। তাদের ভয়াবহ হামলায় সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। আর কিছু আবাসিক শিক্ষার্থী হলগুলোতে আটকা পড়ে। তবে বারবার চেষ্টা করেও শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে ঢুকতে পারেনি পুলিশ।

সিটি ইউনিভার্সিটির অ্যাডমিন অফিসার রায়হান বলেন, আমাদের বেশ কয়েকটি পরিবহনে অগ্নিসংযোগ, একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন ভাঙচুর করেছে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। তাদের হামলায় ৩টি হলের নারী শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৮ শতাধিক শিক্ষার্থী অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। ভাঙচুরের পর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা লুটপাট করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সিটি ইউনিভার্সিটির প্রধান ফটক এবং এর আশপাশে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির প্রায় দশ হাজার শিক্ষার্থী অবস্থান নেন।

ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির প্রক্টর শেখ মোহাম্মদ আল্যাইয়ার বলেন, সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীর মোটরসাইকেল থেকে থুতু পড়া নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। ওই থুতু ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীর গায়ে লাগে। ঘটনাটি ঘটে ব্যাচেলর প্যারাডাইসের সামনেই। এ নিয়ে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। পরবর্তীতে সিটি ইউনিভার্সিটির প্রায় ৪০-৫০ জন শিক্ষার্থী দেশীয় অস্ত্র ও ইট-পাটকেল নিয়ে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ব্যাচেলর প্যারাডাইসের বাসায় হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

তিনি আরো বলেন, ‘ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা সিটি ইউনিভার্সিটির দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল টিম পুলিশকে খবর দেয়। আমাদের কয়েকজন শিক্ষার্থী এখনো সিটি ইউনিভার্সিটির ভেতরে আটকা রয়েছেন।’

এ ব্যাপারে জানতে সাভার মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। বিশৃঙ্খলা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই পক্ষের প্রক্টোরিয়াল বডির সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখা হয়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের অগ্নি সংযোগের পর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে তারা। বর্তমানে ঘটনাস্থল ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *