নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ সংস্কার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

3 Min Read

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ এখন বালুর স্তূপে ঢেকে এক মৃতপ্রায় অবস্থায় পড়ে আছে। প্রায় আট মাস আগে শুরু হওয়া সংস্কারকাজের ধীরগতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে মাঠটি আজও খেলার অযোগ্য। একসময় শিক্ষার্থীদের প্রাণের মাঠটি এখন পরিচিত “বালু খেকো মাঠ” নামে।

আইন ও বিচার বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষার্থী ও নিয়মিত খেলোয়াড় সানোয়ার রাব্বি প্রমিজ বলেন,
“আমরা আন্দোলন না করলে কিছুই হয় না। সাত মাসেও বালু ফেলা শেষ হয়নি। প্রশাসন শুনছে, কিন্তু মাঠের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। এই মাঠ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ ছিল, এখন সেটি অবহেলার স্তূপে পরিণত হয়েছে।”

 অব্যবস্থাপনার ছাপ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ বিলম্ব সম্পূর্ণ অব্যবস্থাপনার ফল। পরিবেশ ও নির্মাণ প্রকৌশলবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ার্স, ঢাকা (IEEB)-এর ২০২২ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে মাঝারি আকারের একটি মাঠের টার্ফ পুনর্গঠন ও মাটি প্রস্তুতি সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব। সময় বিলম্ব সাধারণত দুর্বল পরিকল্পনা, উপকরণ সরবরাহে অদক্ষতা এবং তদারকি ব্যর্থতার কারণে হয়।

বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ইঞ্জিনিয়ার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত বালু ব্যবহারে মাঠের প্রাকৃতিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নষ্ট হয়। এতে ঘাসের শিকড় শ্বাস নিতে পারে না এবং মাঠ দীর্ঘমেয়াদে অনুপযোগী হয়ে যায়।

একই নেটওয়ার্ক, নতুন নামে প্রকল্প

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, মাঠ সংস্কারের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানটি আগেও নিম্নমানের কাজের অভিযোগে বিতর্কে ছিল। পূর্বে তারা ড্রেনেজ প্রকল্পে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করে ধরা পড়ে। এখন একই নেটওয়ার্কের লোকজন নতুন নামে মাঠ সংস্কারের দায়িত্ব পেয়েছে— ফলে “নাম পাল্টে অনিয়মের পুনরাবৃত্তি” ঘটছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ২(ঙ) অনুযায়ী, সরকারি প্রকল্পে ইচ্ছাকৃত অবহেলা বা মানহীন কাজ দুর্নীতি হিসেবে গণ্য হয়। সরকারি ক্রয়বিধি (PPR 2008) ধারা 39(2)-এও বলা আছে— ঠিকাদার নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে চুক্তি বাতিল ও জামানত বাজেয়াপ্ত করা যাবে।

তবুও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি।

- Advertisement -

শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ, প্রশাসনের আশ্বাস

শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন প্রশাসনের কাছে জবাব চাইছেন, কিন্তু পাচ্ছেন একই উত্তর, নতুন ঠিকাদার কাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পরিচালক মো. নাজমুল হাসান বলেন, আগের কন্ট্রাক্টরকে বাদ দেওয়া হয়েছে, নতুন কন্ট্রাক্টর কাজ করছে। আমরা দ্রুত কাজ শেষের জন্য চাপ দিচ্ছি।

- Advertisement -

তবে মাঠে গিয়ে দেখা যায়, বালু ফেলার কাজ শেষ হয়নি, ঘাস বিছানোর কোনো প্রস্তুতিও দেখা যাচ্ছে না।

ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী নয়ন বলেন, আমার বাড়িতে থাকলে প্রতিদিন খেলতাম, ফিট থাকতাম। এখানে আট মাস ধরে কোনো অনুশীলন করতে পারছি না। আমার ফিটনেস নষ্ট হচ্ছেmএর দায় কে নেবে?

বালুর নিচে চাপা বিশ্ববিদ্যালয়ের সত্তা

বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাঠ ইস্যুতে নিয়মিত আলোচনা করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের টি.এস.সি ও আন্দোলনমুখী শিক্ষার্থী গ্রুপগুলোও বিষয়টি নিয়ে সরব, কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

ফলে বালুর নিচে শুধু ঘাস নয়, চাপা পড়ে আছে শিক্ষার্থীদের আশা, আনন্দ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণচাঞ্চল্য।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *