রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শুক্রবার রাত সোয়া ৮টার দিকে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর আহত হওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সাক্ষীদের বরাতে দলীয় নেতারা অভিযোগ করেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নুরের ওপর হামলা চালিয়েছে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে সহযোগীরা হাসপাতালে নিয়ে যান। এ খবর প্রকাশের পরই ফেসবুক ও এক্সে (টুইটার) ব্যাপক আলোচনার ঝড় ওঠে।
অনেক ব্যবহারকারী নুরের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে লিখেছেন, একজন ছাত্রনেতাকে রক্তাক্ত করা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, জনগণের কণ্ঠ রোধ করতে রাষ্ট্রশক্তিকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
অন্যদিকে কিছু ব্যবহারকারী পুরো ঘটনাকে পরিকল্পিত ‘রাজনৈতিক নাটক’ বলে দাবি করেছেন। তাদের মতে, সংঘর্ষের দায় দুই পক্ষের ওপরই বর্তায়।
এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি’র (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, শুরুটা হয়েছিল রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের পরিকল্পনা দিয়ে,যে পরিকল্পনা আমি ১১ মার্চ প্রকাশ করে দিই। সেই প্ল্যান ভেস্তে গেলেও ওরা থামেনি। সেই একই গ্রুপ এবার আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের জন্য বেছে নিয়েছে জাতীয় পার্টিকে।ভারতের প্রত্যক্ষ মদদে জাতীয় পার্টির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ব্যাক করানোর এই খেলায় প্রথম রক্ত দিলেন আমাদের নূর ভাই। এখন যদি আমরা নুরুল হক নূরের উপর এই ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদ না করতে পারি, জাতীয় পার্টিকে দিয়ে ফ্যাসিবাদ ফেরানোর এই চেষ্টা প্রতিহত না করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশটাই আবার নূর ভাইয়ের মত রক্তাক্ত হয়ে যাবে।নুরুল হক নূরের রক্ত বৃথা যেতে দেব না।ভারতের প্রেসক্রিপশনে বিপ্লবীদের রক্তাক্ত করে আওয়ামী লীগ ফেরানোর এই চেষ্টা আমরা সফল হতে দেব না।
সারজিস আলম লিখেছেন, প্ল্যান-বি হলো জাতীয় পার্টির উপর ভর করে লীগকে ফেরানো। সেজন্য জাতীয় পার্টির বিষয়ে জিরো টলারেন্সে উত্তরপাড়া-দক্ষিণপাড়া মিলে-মিশে একাকার। নুর ভাইদের উপর বর্বরতম হামলার মূল কারণও এটা। অর্থাৎ জাতীয় পার্টির বিষয়ে স্ট্রং মেসেজ দেওয়া হলো সব দলকে! এমন ঘৃণ্যতর হামলার নিন্দা জানাচ্ছি। আওয়ামী লীগ যেভাবে অপরাধী, তার দোসর, বি টিম এবং বৈধতা দানকারী জাতীয় পার্টিও একইভাবে অপরাধী। জাতীয় পার্টিকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টি একই পথের পথিক। তাদের পরিণতিও একই হবে।
গণঅধিকার পরিষদের নেতারা সোশ্যাল মিডিয়ায় নুরের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাৎক্ষণিক বিচার দাবি করেছেন। জাতীয় পার্টির সমর্থকরা পাল্টা পোস্ট দিয়ে অভিযোগ করেছেন, গণঅধিকার পরিষদের কর্মীরাই প্রথমে হামলা চালায়।
ঘটনার ভিডিও ও ছবিগুলো দ্রুত ভাইরাল হওয়ায় অনলাইনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই লিখেছেন, এই ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি ছাড়া রাজনৈতিক সহিংসতা থামবে না।
