পাবনায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আলীমের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ

পাবনা প্রতিনিধি :

4 Min Read
সাবেক ডেপুটি স্পীকার শামসুল হক টুকুর সাথে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আলিম। (বামে দাড়িওয়ালা)। ছবি : সংগৃহীত।

পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলিম ও তার ভাইসহ তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এক ব্যবসায়ী সহ দুইজনের কাছ থেকে তারা ৩০ লাখ টাকা চাঁদাদাবি করেছে দাবি করে সম্প্রতি পাবনা সদর থানায় মামলা দায়েরের জন্য পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন, পাবনা পৌর সদরের দক্ষিণ রাঘবপুর নিমতলা এলাকার মৃত জলিল প্রামাণিকের ছেলে ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলিম (৫০), তার ভাই আব্দুল হালিম ওরফে ক্যালা হালিম (৫৫), একই এলাকার সুজন প্রামাণিকের ছেলে সবুজ প্রামানিক (৩৬), মৃত লোকমানের ছেলে রাফেল (৩২)।

অভিযোগকারী দুইজন হলেন, পাবনা পৌর সদরের দক্ষিণ রাঘবপুর এলাকার মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে রানা শেখ (৩৫) ও একই এলাকার মৃত জাকির হোসেনের ছেলে মো. মুজির হোসেন (৪৫)।

রানা শেখের অভিযোগ, তিন সহ আরো তিনজন দক্ষিণ রাঘবপুর নিমতলা মৌজায় ৩ শতাংশ জমি কিনেছেন। যার খতিয়ান নম্বর ১৫৩১ ও দাগ নম্বর ১২০০। জমি কেনার পর থেকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল আলীমসহ উল্লিখিত অভিযুক্তরা রানা শেখসহ তাদের তাদের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এর মধ্যে গত ১১ এপ্রিল দুপুর ১২টার দিকে রানা শেখ তার মিস্ত্রিদের নিয়ে কেনা জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখান গিয়ে গালিগালাজ ও সীমানা প্রাচীর ভেঙে, নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয় এবং রাজমিস্ত্রিকে হত্যার হুমকি দেয়। রানা শেখ তাদের গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে তাকে মারতে গেলে তিনি দৌড়ে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পান। পরে তারা চাঁদা না দিয়ে কাজ করতে গেলে হত্যা করে লাশ ওই মাটিতে পুঁতে ফেলা হবে বলে হুমকি দিয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় সীমানা প্রাচীর ভেঙে ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী রানা শেখের।

অন্যদিকে একই এলাকার ব্যবসায়ী জীম ফারজানা ওয়েল মিলের স্বত্বাধিকারী মুজির হোসেনের অভিযোগ, গত ১০ এপ্রিল দুপুর ২টার দিকে নিজের মিলে অবস্থানকালে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল আলিম ও উল্লিখিত অভিযুক্তরা তার কাছে গিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না নিলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় তারা। এ ঘটনার পর পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে থানায় মামলার এজাহার দিয়েছেন।

মুজির হোসেন জানান, এর আগে ২০২৫ সালের ২১ মে দুপুর ১২টার দিকে একই অভিযুক্ত দুইভাই সহ অজ্ঞাত আসামিরা পিস্তল ও চাপাতি নিয়ে আমার মিলে যায়। ওই সময় তারা আমার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। প্রাণভয়ে তিনি সেদিন তার পূবালী ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ১৫ লাখ টাকার চেক লিখে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। পরে তারা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেয়। এমন অবস্থায় তিনি এসব চাঁদাবাজির বিচার চেয়ে মামলার এজাহার দিয়েছেন।

এ বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, জমি দখল, চাঁদাদাবির বিষয়ে উভয়পক্ষ লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। আব্দুল আলিম পক্ষও তাদের জমি দাবি করে অভিযোগ দিয়েছে। আমরা প্রাথমিকভাবে খতিয়ে দেখছি। জমিজমার বিষয় যেহেতু আমাদের এখতিয়ারের মধ্যে নয়, তাদের বলেছি একজন উকিল নিয়ে বসে কাগজপত্র সব দেখে বিষয়টি সমাধান করে নিতে। আর মুজির হোসেনের বিষয়টিও তদন্ত করে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয় অভিযুক্ত পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলিম এর সাথে। রানা শেখের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার বাপ-দাদার জায়গা তারা দখল করছে। যে জমি কিনছে সে ১৩ বছর জমিতে আসতে পারে না, আদালতে মামলাও রয়েছে। সেই জায়গা তারা দখল করছে, তারা কারা এটা তো বোঝেনই। এগুলো এখন আর বলার কিছু নাই। জমি তো আর উড়ে যাচ্ছে না। কাগজপত্র কথা বলবে, জমি কার।

আর তেল মিল মালিক মুজিরের কাছে চাঁদাদাবি বিষয়ে আলিম বলেন, আপনারা ওখানে গিয়ে শোনেন। আরো তো লোকজন আছে। আমরা তো চাঁদাবাজ বা দখলবাজ না। আমরা ব্যাবসা করে খাই। আর কারা কী করছে, না করছে তা পাবলিক জানে। পাবনার জনগণ সব জানে। সবার কাছে খোঁজ নেন আমরা কী, কেমন, কীসের ব্যাবসা করি, মানুষ জানে। আর তারা কি করে, কি করে খায় সেটাও মানুষ জানে।

- Advertisement -
newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *