ফিরে দেখা প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ১০ যুগান্তকারী পদক্ষেপ

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক যাত্রা শুধুই ব্যক্তি সফলতার গল্প নয়; এটি নারীর ক্ষমতায়ন, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং দৃঢ় নেতৃত্বের এক অনন্য উদাহরণ।

বিশেষ প্রতিনিধি :

3 Min Read
ছবি - সংগৃহীত।

বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী সরকার প্রধান হিসেবে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। গৃহবধূ থেকে উঠে এসে দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পদে আসা এই নেত্রী শুধু দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতায় নয়, দলের নেতৃত্বেও দীর্ঘ সময় অবিচল থেকেছেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি আপোষহীন ও নীতিপরায়ণ নেত্রী হিসেবে স্বীকৃত। বারবার দেশের ও দলের কঠিন পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে তিনি নিজের নীতি ও আদর্শে দৃঢ় থেকেছেন, যা তাকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে।

১৯৮৭ সালে থেকে ‘এরশাদ হটাও’ আন্দোলনে খালেদা জিয়া অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে একযোগে কাজ করে সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সরকারের পুনঃপ্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেন।

প্রধানমন্ত্রিত্বের তিন মেয়াদে খালেদা জিয়া দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

তার ১০টি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক নিম্নরূপ:

১. সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা: ১৯৯১ সালে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রপতি পদ্ধতি বাতিল করে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

২. অর্থনৈতিক উদারীকরণ ও বেসরকারিকরণ: শিল্প ও বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

৩. শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রগতি: প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও বিনামূল্যে করা, মেয়েদের ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা ও উপবৃত্তি প্রদান।

৪. যমুনা বহুমুখী সেতু নির্মাণ: বঙ্গবন্ধু সেতুর কাজ শুরু, যা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনল।

- Advertisement -

৫. তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন: ১৯৯৬ সালে সংবিধানের ১৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রবর্তন।

৬. গঙ্গার পানি বণ্টন ইস্যু আন্তর্জাতিক ফোরামে উত্থাপন: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বিষয়টি তুলে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টিতে অবদান।

৭. প্রবৃদ্ধি ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধি: ২০০১–২০০৬ সালে রপ্তানি ও প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি, শিল্প ও টেলিযোগাযোগ খাতেও উন্নতি।

- Advertisement -

৮. র‌্যাব গঠন: ২০০৪ সালে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) গঠন ও চরমপন্থী সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযান।

৯. নারী কর্মসংস্থান বৃদ্ধি: পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে নারী কর্মসংস্থান বাড়ানো, প্রায় দুই লাখ নারী যুক্ত হন।

১০. আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: ফোর্বস ম্যাগাজিনের বিশ্বের ১০০ ক্ষমতাধর নারীর তালিকায় ২০০৪, ২০০৫ ও ২০০৬ সালে স্থান।

উল্লেখ্য, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) গঠনের ২১ বছর পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও মানবাধিকার সংস্থা র‍্যাবের বিরুদ্ধে গুম এবং বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উত্থাপন করেছে। তবে এসব অভিযোগ মূলত ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের শাসনামলে বেশি পরিমাণে সামনে এসেছে।

তথ্যসূত্র : বিএনপি অফিশিয়াল ওয়েবসাইট, উইকিপিডিয়া, বিএনপি মিডিয়া সেল এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কলাম।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *