বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করা কিছু রাজনৈতিক নেতা দেশে ফিরে এসে এখন মামলা বাণিজ্য ও চাঁদাবাজিতে জড়িয়েছে। তিনি বলেন, গত ৬ আগস্টের পর থেকে এসব অপকর্ম থামেনি; বরং সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এমনকি ফুটপাতে ভিক্ষা করা মানুষও চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছে।
রোববার বিকেলে রাজধানীর মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী নাহিদ ইসলাম এর পক্ষে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।
বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রতি ইঙ্গিত করে শফিকুর রহমান বলেন, যারা একসময় নির্যাতনের শিকার ছিলেন, তাদেরই এখন অন্যায় আচরণে জড়াতে দেখা যাচ্ছে। “আমরা বিনয়ের সঙ্গে বলেছিলাম আপনারা মজলুম ছিলেন, জালিম হবেন না। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মামলাবাজি বেপরোয়া গতিতে বাড়ছে,” বলেন তিনি।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে মানুষ জীবন দিয়েছিল কি নতুন চাঁদাবাজ তৈরির জন্য? পুরোনো অন্যায়ের জায়গায় নতুন অন্যায় বসানোর জন্য সে আন্দোলন হয়নি বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।
আন্দোলনের মূল দাবি ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, তরুণদের প্রত্যাশা ছিল সমাজের সর্বস্তরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।
যুব সমাজের ভবিষ্যৎ ভূমিকার কথা তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত দেশের দায়িত্ব তরুণদের হাতে তুলে দিতে চায়। “আমরা বেকার ভাতা দিতে চাই না। জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণরা কখনো ভিক্ষা করেনি; তারা চেয়েছে অধিকার ও সম্মানজনক কাজ,” বলেন তিনি।
নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, এবারের ভোটে জনগণ দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মামলাবাজি ও দখলদারিত্বকে লাল কার্ড দেখাবে। একই সঙ্গে আধিপত্যবাদী রাজনীতির দাসত্বও জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ শাসনামলে জনগণ যে অপকর্মের শিকার হয়েছিল, ৬ আগস্টের পর থেকে একই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড নতুন করে শুরু হয়েছে, যা জনগণ আর মেনে নেবে না।
