বিক্ষোভের মুখে বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

নিউজনেক্সট অনলাইন :

3 Min Read

টানা কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভ ও অর্থনৈতিক দুর্বলতা এবং দুর্নীতি দমনে ব্যর্থতার অভিযোগের মুখে পদত্যাগ করেছে বুলগেরিয়ার সরকার। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোট হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে পদত্যাগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী রোজেন জেলিয়াজকভ।

ক্ষমতায় আসার এক বছরেরও কম সময়ের মাথায় সরকারের পতন ঘটল। একই সঙ্গে ইউরোজোনে যোগদানের নির্ধারিত তারিখ আগামী ১ জানুয়ারির মাত্র তিন সপ্তাহ আগেই দেশটি বড় ধরনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ল।

টেলিভিশনে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জেলিয়াজকভ বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জগুলো মূল্যায়ন করেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সমাজের প্রত্যাশা পূরণ করা। ক্ষমতা জনগণের,’ যোগ করেন তিনি।

এর আগে রাজধানী সোফিয়া ও অন্যান্য শহরে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে যোগ দেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, সরকার কাঠামোগত দুর্নীতি রোধে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। জেলিয়াজকভও স্বীকার করেন, এই প্রতিবাদ মূলত সরকারের ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে এবং এটি “মূল্যবোধের লড়াই”, যা দেশের বিভিন্ন শ্রেণির নাগরিককে একত্রিত করেছে।

বিক্ষোভকারীদের বড় অংশই ছিলেন তরুণ ও শহুরে পেশাজীবী, যারা বুলগেরিয়াকে আরও ইউরোপমুখী ও সুশাসিত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠতে দেখতে চান। ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার ১৭ বছর পরও দেশটি এখনো ইইউর সবচেয়ে দরিদ্র ও দুর্নীতিগ্রস্ত সদস্য হিসেবে পরিচিত।

গত সপ্তাহেই বিক্ষোভের চাপের মুখে সরকার ২০২৬ সালের বাজেট পরিকল্পনা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। ইউরোতে প্রস্তুত করা ওই বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা ফি ও লভ্যাংশের ওপর কর বাড়ানোর প্রস্তাব ছিল, যা জনরোষ সৃষ্টি করে।

গত চার বছরে রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে বুলগেরিয়ায় সাতবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছে ২০২৪ সালের অক্টোবরে। সরকারের পতন ঘটানোর উদ্যোগ নেয় প্রধান বিরোধী দল ‘কন্টিনিউ দ্য চেঞ্জ – ডেমোক্রেটিক বুলগেরিয়া’র নেতা আসেন ভাসিলেভ। তিনি বলেন, এই পদত্যাগ বুলগেরিয়াকে একটি স্বাভাবিক ইউরোপীয় রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রথম ধাপ। এখন দরকার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।

এখন প্রেসিডেন্ট রুমেন রাদেভ সংসদে নতুন সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন। তবে রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে এটি সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। এমন পরিস্থিতিতে আগাম নির্বাচনের আগ পর্যন্ত একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়োগ করতে পারেন প্রেসিডেন্ট।

এদিকে বিদায়ী জোটের প্রধান দল জিইআরবি–এর নেতা বয়কো বরিসভ গত ১১ মাসে তাদের সরকারের কাজের প্রশংসা করেন। তিনি দাবি করেন, শেনগেন জোনে প্রবেশ ও ইউরোজোনে যোগদানের প্রস্তুতিসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে অগ্রগতি হয়েছে। বরিসভ বলেন, আমাদের কাজ নিয়ে লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই। এখন আমরা শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেব।

- Advertisement -

বাজেট পরিকল্পনা প্রত্যাহারের পরও বিক্ষোভকারীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। দেশের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পুনরাবৃত্ত নির্বাচনের কারণে বুলগেরিয়া বর্তমানে ইউরোপের অন্যতম অস্থিতিশীল গণতন্ত্রে পরিণত হয়েছে।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *