মাধ্যমিক ভর্তিতে কাঙ্ক্ষিত স্কুল না পেয়ে বিপাকে শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

3 Min Read

২০২৬ শিক্ষাবর্ষে সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করেছিলেন ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৫৪ জন শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে তাদের মধ্যে মাত্র ৩ লাখ ৫ হাজার ৪৯৯ জনের ভর্তির সুযোগ পাওয়া গেছে। ফলে পছন্দের স্কুলে ভর্তির সুযোগ বঞ্চিত হয়েছেন ৭ লাখ ৫০ হাজার ৫৫৫ জন শিক্ষার্থী।

এদিকে সরকারি–বেসরকারি মিলিয়ে বিদ্যালয়গুলোতে মোট শূন্য আসন ছিল ১১ লাখ ৯৩ হাজার ২৮১টি। এর মধ্যে লটারির পরও ফাঁকা রয়েছে ৮ লাখ ৮৭ হাজার ৭৮২টি আসন। ভর্তি কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যায় জানা যায়, অনেক শিক্ষার্থী মাত্র এক বা দুইটি স্কুলকে পছন্দের তালিকায় রেখেছেন যে কারণে সেই নির্দিষ্ট স্কুলে সুযোগ না মিললে তারা অন্য কোনো বিদ্যালয়েও নির্বাচিত হননি।

সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে লটারি কার্যক্রম শুরু হয়ে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলে। পরে বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করা হয়।

সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের চিত্র

সরকারি মাধ্যমিকে শূন্য আসন ছিল ১ লাখ ২১ হাজার ৩০টি। সেখানে আবেদন করে ৭ লাখ ১৯ হাজার ৮৫৪ শিক্ষার্থী। নির্বাচিত হয়েছেন মাত্র ১ লাখ ৭ হাজার ৫২১ জন। অন্যদিকে বেসরকারি বিদ্যালয়ে শূন্য আসন ছিল ১০ লাখ ৭২ হাজার ২৫১টি। আবেদন পড়ে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ১৯৬টি। নির্বাচিত হয়েছেন ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯৭৮ জন। ফলে বেসরকারি স্কুলগুলোতে প্রায় ৮ লাখ ৭৪ হাজার আসন ফাঁকা থাকছে।

পছন্দের তালিকায় সীমাবদ্ধতা

মাউশির মাধ্যমিক উইংয়ের পরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, সীমিত কিছু স্কুলে শিক্ষার্থীদের বিপুল আগ্রহের কারণেই বেশি জটিলতা তৈরি হয়েছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে জানান, ঢাকার ভিকারুননিসা ও মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের মতো প্রতিষ্ঠানে ৫৫টি শূন্য আসনের বিপরীতে আবেদন পড়ে প্রায় ২০ হাজার। অধিকাংশ আবেদনকারী কেবল এসব স্কুলকেই পছন্দের তালিকায় রাখায় ৫৫ জন নির্বাচিত হলেও বাকি ১৯ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী কোনো স্কুলে সুযোগ পাননি।

তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, এ শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই ইতোমধ্যে কোনো না কোনো প্রতিষ্ঠানে পড়ছে। তাই তারা পছন্দের একটি বা দুটি স্কুলই বেছে নিয়েছে। লটারিতে সেসব স্কুলে সুযোগ না পেলেই তালিকায় আর কোনো বিকল্প না থাকায় তারা বাদ পড়েছে। দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশের সম্ভাবনার কথাও জানান তিনি।

বৈষম্য কমছে, আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন

- Advertisement -

শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, লটারি পদ্ধতি শিক্ষায় বৈষম্য কিছুটা কমিয়েছে। “আগে নামি স্কুলে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা আবেদন করার সাহসই পেত না। এখন লটারিতে সুযোগ পেলে তারাও বড় প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে,”—বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, অতীতে প্রথম–দ্বিতীয় শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় অপ্রাপ্তবয়স্কদের মেধা যাচাইয়ের নামে বৈষম্য তৈরি হতো। ভালো শিক্ষার্থী শুধু কিছু স্কুলেই ভর্তির সুযোগ পেত, আর পিছিয়ে পড়ারা বঞ্চিত হতো যা লটারি পদ্ধতি অনেকটাই বদলে দিয়েছে।

তবে এ ব্যবস্থায় এখনো কিছু ত্রুটি আছে জানিয়ে রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, “আলোচনার মাধ্যমে লটারি পদ্ধতিকে আরও স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করা যেতে পারে। এতে ভর্তিবাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।”

- Advertisement -
newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *