‘সহায়তা আসছে’ ইরানের বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে ট্রাম্পের বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

3 Min Read

ইরানের সরকারবিরোধী আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের জন্য সহায়তা পথে রয়েছে। মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইরানিদের উদ্দেশে এই বার্তা দেন।

ট্রাম্প লেখেন, “ইরানের দেশপ্রেমিকরা, আন্দোলন চালিয়ে যান। নিজেদের প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিন। নিপীড়ক ও হত্যাকারীদের নাম মনে রাখুন—তাদের কঠিন মূল্য দিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “বিক্ষোভকারীদের নির্বিচারে হত্যা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব ধরনের বৈঠক বাতিল করা হয়েছে। সহায়তা আসছে।”

পোস্টের শেষাংশে ট্রাম্প ‘মিগা’—‘মেক ইরান গ্রেট এগেইন’ স্লোগান ব্যবহার করেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এদিকে ইরানে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বুধবার সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারী এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পাওয়া যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, চলমান আন্দোলনে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৮৫০ জন নিহত এবং প্রায় ১৬ হাজার ৭৮৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ পরিস্থিতিতে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের সমালোচনা করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের হুমকি এবং শুল্ক আরোপের ঘোষণাকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া ঝাখারোভা বলেন, ইরানে হামলার হুমকি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা বিপজ্জনক।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট হাউস অব কমন্সে দেওয়া এক বক্তব্যে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের বিক্ষোভ দমনকে গত ১৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে নিষ্ঠুর ও রক্তক্ষয়ী অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে রয়েছে চীন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও ভারত।

সোমবার হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানান, ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিমান হামলাসহ সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পও যুক্তরাষ্ট্রের বিবেচনায় রয়েছে।

- Advertisement -

উল্লেখ্য, ইরানের মুদ্রা রিয়ালের মূল্য পতনের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট থেকেই গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে বিক্ষোভের সূচনা হয়। সেই আন্দোলন বর্তমানে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনির রাজনৈতিক বৈধতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর ইরানের ভেতরে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ না থাকায়, অধিকাংশ তথ্য দেশটির বাইরে অবস্থানরত মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ওপর নির্ভর করেই প্রকাশিত হচ্ছে।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *