অ্যামটব: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা বিপর্যয়ের আশঙ্কা

বিশেষ প্রতিনিধি :

2 Min Read

দেশজুড়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে মোবাইল টেলিকম সেবার ধারাবাহিকতা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে বলে সতর্ক করেছে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব)। তারা বলছে, জরুরি ভিত্তিতে অগ্রাধিকারমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে দেশব্যাপী মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা বিঘ্নিত বা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

শনিবার (২০ এপ্রিল) বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এ উদ্বেগ জানায় অ্যামটব। চিঠিতে বলা হয়, দেশের তিনটি বড় বেসরকারি অপারেটর—গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকের টাওয়ার (বিটিএস) এবং ডেটা সেন্টার সচল রাখতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি প্রয়োজন হচ্ছে।

অ্যামটবের তথ্য অনুযায়ী, শুধু নেটওয়ার্ক অবকাঠামো চালু রাখতে দৈনিক প্রায় ৭৯ হাজার ৬২১ লিটার ডিজেল এবং ১৯ হাজার ৮৫৯ লিটার অকটেন দরকার হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় জেনারেটর চালাতে এই জ্বালানি ব্যবহার করতে হচ্ছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, গ্রামীণফোনের আটটি ডেটা সেন্টারে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১ হাজার ৮৬৪ লিটার ডিজেল, রবির ১০টি ডেটা সেন্টারে ১ হাজার ৬২২ লিটার এবং বাংলালিংকের আটটি ডেটা সেন্টারে ৯৮৫ লিটার ডিজেল খরচ হচ্ছে। সব মিলিয়ে শুধু ডেটা সেন্টার সচল রাখতে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৪ হাজার ৪৭১ লিটার ডিজেল প্রয়োজন।

সংগঠনটি জানায়, সাম্প্রতিক ঝড়-বৃষ্টি ও দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। অনেক এলাকায় দিনে ৫ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় টাওয়ার ও ডেটা সেন্টারগুলো সম্পূর্ণভাবে জেনারেটরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এতে নেটওয়ার্ক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

অ্যামটব আরও অভিযোগ করে, জ্বালানি পরিবহনের সময় বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধার কারণে সরবরাহ প্রক্রিয়াও ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় পেট্রোল পাম্পগুলো পর্যাপ্ত জ্বালানি দিতে না পারায় পরিস্থিতি আরও সংকটময় হয়ে উঠছে।

চিঠিতে বলা হয়, টেলিকম সেবা দেশের জরুরি অবকাঠামোর অংশ হওয়ায় এর জন্য বিশেষ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অগ্রাধিকার ব্যবস্থা প্রয়োজন। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংগঠনটি।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *