দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়ে দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দর্শকের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ধারণ করা হয়েছে নদীবিধৌত দ্বীপ জেলা ভোলার চরফ্যাশনে। বৃটিশ আমলে নির্মিত শতবর্ষী ট্যাফনাল ব্যারেট স্কুলের সামনে নির্মিত মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় এই পর্ব।
অনুষ্ঠানের দিন দুপুর থেকেই ভিড় জমে যায় অনুষ্ঠানস্থলে। আমন্ত্রিত দর্শকের পাশাপাশি আশপাশের ছাদ ও সড়কেও দাঁড়ান অসংখ্য মানুষ। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোলায় এত বড় দর্শক সমাগম এর আগে কোনো অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি। প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ উপস্থিত থেকে উপভোগ করেন অনুষ্ঠানটি।
এই পর্বে থাকছে দুটি গান। ভোলাকে ঘিরে পরিচিতিমূলক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন রাজিব ও তানজিনা রুমা, নৃত্যে অংশ নেন স্থানীয় শতাধিক শিল্পী। গানটির সুর করেছেন হানিফ সংকেত এবং সংগীত আয়োজন করেছেন মেহেদী। অন্য গানটি গেয়েছেন রবি চৌধুরী ও আঁখি আলমগীর; কথা লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন এবং সুর–সংগীত করেছেন ইমরান মাহমুদুল।
দর্শকপর্বে ভোলার জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব অতিথি হিসেবে অংশ নেন। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে জেলার কৃতি সন্তান এভারেস্টজয়ী এম এ মুহিতের সাক্ষাৎকার। তিনি দ্বিতীয়বার এভারেস্ট জয় করার সময় নিশাত মজুমদারের সঙ্গে ‘ইত্যাদি’ লেখা ব্যানার হাতে নিয়েছিলেন কেন, সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে এই পর্বে।
অনুষ্ঠানে ভোলা জেলার ইতিহাস, ১৯৭০ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের স্মৃতি, মহিষকেন্দ্রিক ব্যবসা, জেলেদের করুণ জীবনযাত্রা তুলে ধরা হবে। বিদেশি প্রতিবেদন হিসেবে থাকছে চীনের বেইজিং সামার প্যালেস।
সামাজিক নাট্যাংশে দেখা যাবে সমসাময়িক নানা প্রসঙ্গ—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বনাম বৃদ্ধা, সাংস্কৃতিক বিতর্ক, সন্তানের মোবাইল আসক্তি, সিনেমার প্রচারণা, ভাইরাস আতঙ্ক, চোরের সংজ্ঞা ইত্যাদি। অভিনয়ে অংশ নিয়েছেন দিলারা জামান, সোলায়মান খোকা, আব্দুল আজিজ, সুভাশিষ ভৌমিক, মুকিত জাকারিয়া, শাহেদ আলীসহ আরও অনেকে।
