ঈদের পর রাজধানীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সরেজমিনে দেখতে টানা চার ঘণ্টা ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ কোনো প্রোটোকল ছাড়াই নিজে গাড়ি চালিয়ে রাজধানীর সড়ক পরিদর্শনের ঘটনাটি শুধু প্রশাসনিক তদারকি নয়, রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ একটি বার্তা বহন করছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাধারণত শীর্ষ নেতাদের জনসম্মুখে উপস্থিতি সীমিত প্রোটোকল ও নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যেই দেখা যায়। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর এভাবে সরাসরি মাঠে নেমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অনেকের কাছে ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক আচরণ হিসেবে ধরা দিয়েছে। বিশেষ করে নাগরিক সেবা, পরিচ্ছন্নতা ও স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ এবং দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা প্রশাসনের জন্যও স্পষ্ট বার্তা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত দৃশ্যমান প্রশাসনের একটি উদাহরণ। অর্থাৎ সরকার শুধু নীতিনির্ধারণে সীমাবদ্ধ নয়, মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন নিয়েও সক্রিয় এমন একটি ভাবমূর্তি গড়ে তোলার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই ধরনের ‘মাঠে থাকা নেতৃত্ব’ জনগণের কাছে ইতিবাচক বার্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এখানে আরেকটি দিক গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন, বিরোধিতা ও ক্ষমতার বাইরে থাকা রাজনীতির সঙ্গে বেশি পরিচিত ছিল। এখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে দলটি প্রশাসনিক সক্ষমতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং জবাবদিহিমূলক শাসনের ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে চাইছে; এমন ইঙ্গিতও এই ঘটনায় পাওয়া যায়। বিশেষ করে কোরবানির বর্জ্যের মতো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের একটি বাস্তব সমস্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি মাঠে নামা রাজনৈতিকভাবে একটি জনঘনিষ্ঠ বার্তা বহন করে।
তবে সমালোচকদের কেউ কেউ বলছেন, শুধু তাৎক্ষণিক পরিদর্শন বা কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করাই যথেষ্ট নয়; নগর ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করাও জরুরি। রাজধানীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা বা যানজটের মতো সমস্যাগুলো দীর্ঘদিনের। তাই প্রতীকী পদক্ষেপের পাশাপাশি স্থায়ী সংস্কার কতটা হয়, সেটিই শেষ পর্যন্ত বড় প্রশ্ন হয়ে থাকবে।
তার পরও রাজনৈতিক যোগাযোগের দিক থেকে ঘটনাটি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এটি এমন সময়ে ঘটল, যখন সরকারকে নাগরিক সেবার কার্যকারিতা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জনমতের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি তদারকি শুধু একটি প্রশাসনিক অভিযান নয়, বরং জনমনে সক্রিয় ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের ধারণা প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক প্রয়াস হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
