আজ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে আধিপত্যবাদী চক্রের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সিপাহি ও জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার প্রত্যয়ে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন ঘটায়। এদিন দেশ ও জাতি পায় নতুন দিশা।
১৯৭৫ সালের ৬ নভেম্বর সেনাবাহিনীর তৎকালীন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে বন্দি করেন। নিজেকে সেনাপ্রধান ঘোষণা করে খালেদ মোশাররফ বঙ্গভবনে গিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদকে ক্ষমতাচ্যুত করে জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন এবং প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে রাষ্ট্রপতি পদে বসান।
এর বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর সাধারণ সদস্যরা ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে সাধারণ মানুষও রাস্তায় নেমে আসে। সিপাহি-জনতার সেই যৌথ বিপ্লবে মুক্ত হন জিয়াউর রহমান এবং তার নেতৃত্বে শুরু হয় দেশের নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়। বিশ্লেষকদের মতে, এই পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়েই জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নতুন করে শক্ত ভিত্তি লাভ করে এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এই দিনটিকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করা হয়। সিপাহি ও জনতার ঐক্য সে সময় দেশকে এক গভীর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা থেকে রক্ষা করেছিল। একদলীয় শাসন ও নৈরাজ্যের অবসান ঘটিয়ে নতুন ধারার রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছিল, যা জাতিকে নতুন পরিচয়ে অভিষিক্ত করে।
বিএনপি সরকারের আমলে দিনটি ছিল সরকারি ছুটি। এবছরও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য **নয় দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি**। আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক বাণীতে বলেন,১ ৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব ছিল জাতীয় স্বাধীনতা সুরক্ষা ও গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের প্রতীক। এদিনে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা পেয়েছিল, আধিপত্যবাদবিরোধী জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অভ্যুদয় ঘটেছিল।
তিনি আরও বলেন, আজ গণতন্ত্রকে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পাশাপাশি মানুষের মৌলিক অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ৭ নভেম্বরের চেতনায় জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শক্তিশালী গণতন্ত্র গড়ে তুলতে হবে।
বিএনপির কর্মসূচি
৭ নভেম্বর উপলক্ষে আজ সকাল ৬টায় দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন, সকাল ১০টায় জিয়ার কবর জিয়ারত, ৮ নভেম্বর নয়াপল্টন থেকে শোভাযাত্রা ও বিভিন্ন জেলায় অনুরূপ কর্মসূচি হবে। ৬ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হবে ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য নিয়ে ডকুমেন্টারি ও প্রচারণা সামগ্রী। এছাড়া ছাত্রদল, তাঁতী দল, কৃষক দল ও জাসাসসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করবে।
জামায়াতের কর্মসূচি
একই উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, সব মহানগরী ও জেলায় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল হবে। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ইতিহাসে এক তাৎপর্যময় দিন। মুক্তিকামী জনতা রাজপথে নেমে জাতির অস্তিত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।
এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনও আজ জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে।
